কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বালুঘাটে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নাসিরুল বিশ্বাস (৪৫) নামের এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর বাড়ি বাহিরচর ইউনিয়নের বাহিরচর ষোলদাগ গ্রামে। তিনি স্থানীয়ভাবে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং বাহিরচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন বিকেলে বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে যান নাসিরুল। এ সময় অস্ত্রধারী কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাঁর কাছে বালু বিক্রির টাকা দাবি করেন এবং বালুঘাটের ইজারা নিয়ে কথা বলতে থাকেন। নাসিরুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর দিকে গুলি ছোড়ে। পালানোর চেষ্টা করলে নাসিরুলের পিঠে গুলি লাগে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পায়েও আঘাত করা হয়।
আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, নাসিরুলের শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে এবং তাঁর পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি বিপন্মুক্ত।
বাহিরচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহুরুল ইসলাম বিজলী বলেন, হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় তাদের বালু ব্যবসা রয়েছে এবং নাসিরুলই বালুর ঘাট দেখাশোনা করেন। বালু বিক্রির জন্যই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে। ঘটনার সময় নাসিরুলের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলাকারীদের সংখ্যা ছিল সাত। তাদের মধ্যে ছয়জন মুখোশ পরা ছিল এবং একজনের মুখ খোলা থাকলেও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি তারা।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নাসিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
অপরদিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ জানান, পদ্মা নদীতে কুষ্টিয়ার আওতাধীন কোনো এলাকায় বর্তমানে বালু উত্তোলন বা বিক্রির বৈধ ইজারা নেই। সব ধরনের ইজারা স্থগিত থাকায় যেকোনো ধরনের বালু বেচাকেনা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।




