রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিনে মাছের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে। এই সুযোগে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ গতকাল সন্ধ্যা ও আজ সকালে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য মাছ ক্রয় করে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন।

শাহজাহান শেখ প্রথমে রোববার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের বিপরীত পাশের এক জেলের জালে ধরা পড়া একটি ৬ কেজি ওজনের ঢাঁই মাছ কেনেন। রেজাউল মণ্ডলের আড়তে নিলামে তোলা মাছটির জন্য তিনি কেজিপ্রতি ৪ হাজার ২০০ টাকা দরে মোট ২৫ হাজার ২০০ টাকা দেন। পরে সেটি কেজিতে ২০০ টাকা লাভে নারায়ণগঞ্জের ফ্রান্সপ্রবাসী রানা মিয়ার কাছে ২৬ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করে রাতেই পাঠিয়ে দেন।

আজ সোমবার ভোরে মোহন মণ্ডলের আড়তেও জোরদার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাবনার জেলে কৃষ্ণ হালদারের জালে ধরা পড়া ২৫ কেজি ও ১৫ কেজি ওজনের দুটি বাগাড় মাছ তোলা হয়। প্রথমটি ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে ৪২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বিতীয়টি ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে ২১ হাজার টাকায় কিনে নেন শাহজাহান। একই আড়তে ১৮ কেজি ওজনের একটি রুই মাছ ৩ হাজার টাকা কেজি দরে ৫৪ হাজার টাকা এবং আরেকটি ১৮ কেজি ওজনের বোয়াল মাছ ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে ৪১ হাজার ৪০০ টাকায় ক্রয় করেন তিনি।

এই মাছ দুটির মধ্যে রুই ও বোয়াল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ইরাকপ্রবাসী এক ব্যক্তি কিনে নেন। তিনি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা লাভ দিয়ে রুইটি ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা ও বোয়ালটি ৪৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। মাছ দুটি সকালেই ক্রেতার ঠিকানায় পাঠানো হয়। বাগাড় মাছ দুটি এখনো বিক্রি হয়নি বলে জানান শাহজাহান। তিনি কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভ পেলেই সেগুলো বিক্রি করে দেবেন।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকা অনুযায়ী বাগাড় মাছ একটি মহাবিপন্ন প্রজাতি। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই মাছ শিকার, ধরা ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজবাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে এই আইন উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার ও নিলাম চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পদ্মার পানি বাড়ায় রাজবাড়ী ছাড়াও মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার জেলেরা এখানে বিভিন্ন ধরনের জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন।