যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স মিলারকে ঘিরে। তার বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী কন্যাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর এবার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন একাধিক রিপাবলিকান সিনেটর। সম্প্রতি ইন্ডিয়ানার সিনেটর জিম ব্যাংকসহ অন্তত পাঁচজন সিনেটর প্রকাশ্যে মিলারের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

রবিবার এনবিসি'র 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে জিম ব্যাংক বলেন, মিলারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক'। যদিও মিলার এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন, তবুও ব্যাংকসহ অন্যরা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযোগের মুখে তার পদত্যাগই সমীচীন হবে। মিলারের সাবেক শ্বশুর বার্নি মোরেনো, ওহাইও'র অন্য সিনেটর জন হাস্টেড, মন্টানার সিনেটর টিম শিহি এবং কানসাসের সিনেটর রজার মার্শালও তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবিতে যোগ দিয়েছেন। তবে লক্ষণীয়, মিলারের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদে কাজ করা কোনো রিপাবলিকান সদস্য এখনও এই দাবিতে সোচ্চার হননি।

প্রথম মেয়াদের সিনেটর ব্যাংক আরও বলেন, অভিযোগগুলো যদি সত্য হয় এবং প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে তাতে, তাহলে অবশ্যই তার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি ইঙ্গিত দেন, মিলার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে লড়ছেন, কিন্তু নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'যদি তিনি সেই আসনটি বিপন্ন করেন, তাহলে তার প্রত্যাহার করা উচিত,' বলেন ব্যাংক।

তবে মিলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। গত সপ্তাহান্তে তিনি একটি দীর্ঘ ভিডিও পোস্ট করে প্রতিটি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে নতুন করে পদত্যাগের দাবি ওঠে। মিলারের বিরুদ্ধে সবশেষ অভিযোগগুলো তার সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনোর কাছ থেকে বিবাহবিচ্ছেদের সময় প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তাদের সন্তানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন, স্ত্রীর ওপর গরম পানি ছুঁড়েছেন এবং অন্যান্য সহিংস কাজ করেছেন।

এছাড়া হোয়াইট হাউসের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি স্টেফানি গ্রিশামও অভিযোগ তুলেছেন যে, হোয়াইট হাউসে কাজ করার সময় মিলার তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে আঘাত করেছিলেন। সমালোচনার মুখে থেকেও মিলার প্রত্যাহারের সময়সীমা পার করে দিয়েছেন, ফলে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যালটে থাকবেন। সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট ব্রায়ান পয়নডেক্সটার, যিনি পেশায় লোহার কারিগর।

রবিবার মিলারের মুখপাত্রের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার প্রচারণার মুখপাত্র অ্যাবিগেল অ্যাঞ্জেলোস শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচনে থাকছেন।