মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের আট বছর আগের চমকপ্রদ নির্বাচনী জয়কে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই পরিবর্তন এখন অনেক বড় রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করছেন এই নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেত্রী। এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, বিগত নির্বাচনী চক্রগুলোতে তার দল তরুণ ভোটারদের, বিশেষত তরুণ পুরুষদের সমর্থন হারিয়েছে। এই ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই তারা বিজয়ী জোট গড়তে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এই যে বিদ্রোহী ঢেউ দেখা যাচ্ছে, যখন মানুষ সোমবার সকালে বসে হিসাব করে কে কোন দিকে ভোট দিল, তখন মূল যে বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে সেটি হলো প্রজন্মগত এক সুনামি।” সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর তথ্য অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক চিত্রই তুলে ধরছে। ভোটার ট্র্যাকার ক্যাটালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ভোটারের ২৫ শতাংশ ছিল মিলিনিয়াল প্রজন্মের, যা ২০২০ সালে ছিল ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বেবি বুমাররা মোট ভোটারের ৩২ শতাংশ ছিল। তবে ২০১৬ সালে তাদের অংশ ছিল ৩৬ শতাংশ, যা এখন কমছে।

নিজেও মিলিনিয়াল প্রজন্মের সদস্য ওকাসিও-কর্টেজ মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মই মার্কিন রাজনীতির চিত্র বদলে দেবে। তিনি বলেন, “মিলিনিয়ালরা আর পাঙ্ক শিশু নেই। আমরা বড় হয়েছি, আমাদের আছে বন্ধকি ঋণ, আছে সন্তান। এই প্রজন্ম এখন ভোটকেন্দ্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শক্তি দেখাতে শুরু করেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতি উপেক্ষা, একপাশে সরিয়ে রাখা এবং অর্থনীতি থেকে জলবায়ু—সব ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রজন্ম আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে যাওয়ার যে ক্ষোভ আছে, সেটি থেকেই এই প্রতিক্রিয়া। আমরা এখন লাগাম হাতে নিচ্ছি।”

২০২৫ সালের অফ-ইয়ার নির্বাচন এবং চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাইমারিগুলোতে দেখা গেছে, তরুণ প্রার্থীরা বহু বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রতিষ্ঠিত বা বয়স্ক প্রার্থীদের হারিয়ে দিচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বামপন্থী আদর্শের ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত। তবে ওকাসিও-কর্টেজ মনে করেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা নমনীয়তাও আসে। জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর পুলিশের অর্থায়ন কমানোর যে আন্দোলন জোরালো হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গে এবিসিকে তিনি বলেন, “সেই সময় উন্নতির জন্য যেকোনো নীতি নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা ছিল।” তবে তিনি স্বীকার করেন, “সেই সময়ের ভাষা আজকের ভাষা নয়।”

চলতি নভেম্বরের নির্বাচনে মিলিনিয়াল ভোটারদের প্রভাব পরীক্ষার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যেসব আসনে প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রজন্মগত প্রতিনিধিত্বেরও পার্থক্য বহন করছেন, সেখানে এই প্রভাব স্পষ্ট হবে। আবাসন বাজারেও প্রজন্মগত এই দ্বন্দ্ব প্রকট। উচ্চ বন্ধকি হার ও বাড়ির দামের কারণে অনেক তরুণ পরিবার ঘর কিনতে পারছে না। অন্যদিকে, সন্তানরা বড় হয়ে যাওয়ায় বেবি বুমাররা তাদের বড় বাড়িগুলোতে একা থাকছেন, যেগুলো মিলিনিয়াল পরিবারগুলোর প্রয়োজন কিন্তু তারা খুঁজে পাচ্ছে না বা ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের এক ঐতিহাসিক যুগের সুবিধা পেয়ে বেবি বুমারদের হাতে এখন বিশাল সম্পদ জমা হয়েছে। কিছু হিসাব অনুযায়ী, তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১২৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপুল সম্পদ হস্তান্তরের আশা দেখা দিয়েছে। তবে মিলিনিয়াল এবং জেন এক্স উত্তরাধিকারীরা এর একটি অংশই পেতে পারেন। তবুও কিছু লক্ষণ আছে যে বুমাররা মৃত্যুর আগেই তাদের সম্পদ হস্তান্তর শুরু করেছেন, বিশেষ করে আবাসন বাজারে তরুণদের সাহায্য করতে। ভিসা বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ইনসাইটসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলিনিয়াল বাড়ির মালিকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তাদের বাড়ির ডাউন পেমেন্টে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন এবং সেই সাহায্য ছাড়া তারা বর্তমান বাড়িটি কিনতে পারতেন না। ভিসা বলছে, “পরে উত্তরাধিকার হস্তান্তরের অপেক্ষা না করে বুমাররা এখনই তাদের সন্তানদের বড় আর্থিক বাধাগুলো পার হতে সাহায্য করছে, যখন এই সমর্থন সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।”