মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবিত 'স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট' নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইনটিতে প্রেসিডেন্টকে সেই সব দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যারা রাশিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখে। এই আইনটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ড আইনটির কিছু 'গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধের' কথা উল্লেখ করে সমর্থন দিয়েছে, তবুও বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।
আইনটির সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, শুধুমাত্র রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা — যেমন ভারত ও চীন — এই শুল্কের আওতায় পড়বে, ফলে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সীমিত। কিন্তু সমালোচকদের চোখে এই সীমাবদ্ধতা ভিত্তিহীন। তাঁদের যুক্তি, চীন ও ভারতের মতো বিশাল বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর শুল্ক আরোপের অর্থ হলো বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা, যার প্রভাব পড়বে আমেরিকার উৎপাদক ও ভোক্তাদের ওপর। অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপের ফলে শেয়ারবাজারে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল, তা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি শুধু মার্কিন অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি। যদি অন্য দেশের উৎপাদকরা মার্কিন বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি করতে না পারে, তাহলে তারা আমেরিকা থেকে পণ্য কিনতেও আগ্রহী হবে না — এই সহজ বাণিজ্য সত্যকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। আইনটির মাধ্যমে প্রশাসনের হাতে যে সীমাহীন ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট এই ক্ষমতাকে নিজের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে পারেন, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
এছাড়া, এই আইনটি অর্থনীতির মৌলিক নীতিগুলোকেই 'ভাঙচুর' করছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে, যারা বৈশ্বিক বাণিজ্যে জড়িত থাকার 'সাহস' দেখায়, তাদেরই শাস্তি দেওয়ার মতো একটি নজির স্থাপন করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতো প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমের সমর্থনকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, ক্ষমতার এমন হস্তান্তর যে কোনো অবস্থাতেই অনাকাঙ্ক্ষিত, তা সীমিত বা বিস্তৃত যাই হোক না কেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




