ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক যুগ আগে সংঘটিত একটি শিশু অপহরণ মামলার রায়ে ইমাম হোসেন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি ২০১৪ সালে মেলা দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা হয়েছিল।

আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ইমাম হোসেনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে তা প্রদানের জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় ইমাম হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরপরই তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলছিল ওই সাত বছরের কন্যাশিশুটি। সেই সময় ইমাম হোসেনসহ তিন-চারজন ব্যক্তি এসে তাকে নদীর পাড়ে মেলা দেখানোর কথা বলে সাথে নিয়ে যায়। এরপর তারা শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগের কাশবনে নিয়ে গেলে শিশুটি চিৎকার শুরু করে।

শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলেই ইমাম হোসেনকে আটক করে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল রঞ্জন ইমাম হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর আদালত ইমাম হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন।