টাইফুন বাভি তার বিশাল আকারের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এর সর্বোচ্চ বিস্তার প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার, যা ফ্রান্সের আয়তনের প্রায় সমান। রবিবার সকালে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী ওয়েনজুর নিকটে এটি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি।

এর আগে বাভি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে, যেখানে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত স্পর্শ করে এটি ভারী বৃষ্টিপাত এনেছে, যদিও সরাসরি আঘাত না পড়ায় সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ ১ মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজারো বাসিন্দাকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনে বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে টাইফুনটি ক্যাটাগরি ১ পর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়লেও এর বৃষ্টিবাহী মেঘপুঞ্জে বিশাল পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকায় এটি এখনও বড় ধরনের বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করছে। চীনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে ‘ব্যতিক্রমী ভারী বৃষ্টিপাতের’ সম্ভাবনা রয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই টাইফুন মাইসাক চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গেছে। ওই টাইফুনে কমপক্ষে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে এবং কৃষিখাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। হুবেই প্রদেশে মাইসাক দুটি বিরল টর্নেডোর সৃষ্টি করেছিল বলেও জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জিনিসপত্র মজুত করায় সুপারমার্কেটের তাকগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাভি গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে সুপার টাইফুন হিসেবে আঘাত হেনেছিল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আসার পথে এটি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়লেও এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।