সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের অধীনে থাকা ৩৩টি প্রাচীন গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নীলফামারী জেলার এই শহরের রেল কলোনি এলাকার এসব গাছের বয়স প্রায় দেড় শতাব্দী। বিভাগীয় বন কার্যালয় সম্প্রতি গাছগুলো অপসারণের অনুমতি দিয়েছে। রেলওয়ে পূর্ত বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ১৮৭০ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহত্তম কারখানা সৈয়দপুরে স্থাপিত হলে ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকদের আবাসনের জন্য শহরটি গড়ে ওঠে। পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে সে সময় বিপুল সংখ্যক বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই সব গাছের অনেকগুলোর অবস্থা শোচনীয়। ঘনবসতিপূর্ণ এসব গাছের অধিকাংশই রেইনট্রি জাতীয়, যার গোড়া ভঙ্গুর ও ডালপালা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে বা ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। মে মাসে অফিসার্স কলোনির ডিএস বাসভবনের সামনের একটি বড় রেইনট্রি গাছ সামান্য বাতাসেই সড়কে আছড়ে পড়ে। এর আগে পাঁচমাথা মোড় ও জিআরপি মোড়েও গাছ ভেঙে পড়ে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর সড়কে লায়ন্স স্কুল ও কলেজের কাছে একটি পাকুড় গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর না থাকলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে বিপজ্জনক গাছ অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সৈয়দপুরের সামাজিক সংগঠক ম আ শামীম বলেন, 'রেলের কিছু গাছ ভয়াবহ বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। এগুলো কেটে ফেলা জরুরি, তবে বন বিভাগের নীতিমালা মেনেই যেন কাটা হয়, সেদিকে নজর রাখা উচিত।' শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম জানান, তিনি জন্মের পর থেকে এই বিশাল গাছগুলো দেখছেন। সেগুলো মরে যাচ্ছে এবং যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই বহুবার রেলওয়ের কাছে গাছ কাটার আবেদন জানানো হয়েছিল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮ মে সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম রংপুরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগের প্রতিনিধি দল ১১ জুন একটি চিঠি পাঠায়, যাতে ৩৩টি গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি চিঠিতে কাটা গাছের তিন গুণ সংখ্যক বৃক্ষরোপণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, 'ঝুঁকিপূর্ণ গাছ নির্বাচন শেষ। তাদের মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এসব গাছ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্য নির্ধারিত তিন গুণের পরিবর্তে পাঁচ হাজার গাছের চারা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তহিদুল ইসলাম বলেন, 'গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই শহরজুড়ে পাঁচ হাজার চারা রোপণ করা হবে।' সৈয়দপুর শহরের অফিসার্স কলোনি, সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা, শহীদ আতিয়ার কলোনি, গোলাহাট ও বাঁশবাড়ী এলাকায় রেলওয়ের আবাসনে ছড়িয়ে থাকা হাজারের বেশি শতবর্ষী গাছের মধ্যে শুধু এই ৩৩টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি গাছগুলোকে যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।




