শরীয়তপুর সদর উপজেলার গঙ্গানগর বাজারে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে মিছিল ও সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন অন্তত ৫ শতাধিক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত থেকে জানা যায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথুন ঢালী। তিনি গঙ্গানগর এলাকার বাসিন্দা। মিছিল চলাকালে শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে জাতীয় পতাকা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা দেখা যায়।
মিছিলটি ডোমসার-গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে বাজারে প্রবেশ করে। মিছিলের সামনে একটি ব্যানার ছিল, যাতে লেখা ছিল ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২৬, শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ’। ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ছবি ছাপানো ছিল। এছাড়াও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এবং জাজিরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদারের ছবিও ছিল।
বাজারের শেষ প্রান্তে গিয়ে গঙ্গানগর-কাজিরহাট সড়কে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মিথুন ঢালী বক্তব্য দেন। এই মিছিল ও পথসভার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা এসব ভিডিও নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা আত্মগোপনে চলে যান। সরকার সংগঠন দুটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না করলেও বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিল, স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ এবং শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বিভিন্ন দিবসে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে সংগঠনটি। এসব কর্মসূচির পর পুলিশ বিভিন্ন থানায় দলটির নেতাদের নামে মামলা করেছে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নেতৃত্বে মিছিলের তথ্য পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।




