যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা চালানোর পর রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা এলাকার দানিউব নদীর বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় ইজমাইল শহরের কাছাকাছি অবস্থানরত টোগো পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এক বিশাল ড্রোন আক্রমণ পরিচালনা করে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সে রাতে ৮২২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা যুদ্ধের গতিপথে রেকর্ড সংখ্যক বলে মনে করা হচ্ছে। এরই জের ধরে রাশিয়া দানিউব বন্দরে এই পাল্টা হামলা চালায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওডেসা অঞ্চলের গভর্নরের কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বন্দর এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং একটি জাহাজের কাঠামো মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়। জাহাজটির পতাকা টোগোতে নিবন্ধিত হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক শিপিং লেনে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হামলার সময় জাহাজটিতে কী পরিমাণ পণ্য ছিল বা ক্রুদের অবস্থা কী ছিল, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসন বলছে, হামলার পর বন্দর এলাকায় উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। দানিউব নদীর এই বন্দরটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শস্য রপ্তানির জন্য ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে এই হামলার ফলে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং তার পাল্টা রুশ আগ্রাসন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহল বলছে, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতির যেকোনো সম্ভাবনাকে আরও দূরে ঠেলে দিল। এদিকে, রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের হামলা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর জবাব দেওয়া হবে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার সময় বন্দর এলাকায় অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কিত অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা উল্লেখ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্কোতে এত বড় ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করতে চেয়েছে। অন্যদিকে, দানিউব বন্দরে আঘাত হেনে রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনৈতিক জীবনরেখা বন্ধ করার কৌশল অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমশ বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।