জাম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির রাজধানী লুসাকায় এক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করেছে এবং বিদ্রোহের পরিকল্পনায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে আটক করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের মধ্যে বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান বিরোধী প্রার্থী ছিলেন ব্রায়ান মুন্ডুবিলে। দেশটির প্রধান সরকারি কর্মকর্তা প্যাট্রিক কাংওয়া জানিয়েছেন, রাজধানী লুসাকায় অভিযান চালানোর সময় মুন্ডুবিলেকেও ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। তবে মুন্ডুবিলে দাবি করেছেন, শুক্রবার রাতের এই অভিযান ছিল তাঁর জীবন হত্যার একটি চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, তাঁর সামনেই সহকর্মীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
আধােকর বেশি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইনদে হিচিলেমার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন মুন্ডুবিলে। এর আগে তিনি নির্বাচনে জয়ের দাবি করেছিলেন এবং ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পর্যবেক্ষকদের প্রাথমিক বিবৃতিতে নির্বাচনের দিনটিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে নির্বাচনের আগে বিলম্বিত নির্বাচনী সংস্কার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভোটের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে কাংওয়া বলেছেন, আটক ব্যক্তিরা 'বিদেশি নাগরিকদের জড়িত সামরিক পরিকল্পনা এবং অবৈধ সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প'-এর সাথে যুক্ত। তিনি আরও জানান, তারা 'রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি' এবং সশস্ত্র বিদ্রোহে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে 'উচ্চমানের সামরিক অস্ত্র', গোলাবারুদ ও অন্যান্য উপকরণ রাখত। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হলে পাল্টা গুলি চালানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর মেয়ে তাসিলা লুঙ্গুর স্বামী প্যাট্রিক এমওয়ানসা এবং অন্যান্য রাজনীতিবিদও রয়েছেন। সন্দেহভাজনদের লুসাকার বিভিন্ন থানায় আটক রাখা হয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন মুন্ডুবিলে। এর মধ্যে রয়েছে ভোট গণনা কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততা এবং ব্যালট বাক্সে অনিয়মের খবর। পরে তিনি জানান, তিনি প্রকাশ করা দুটি ভিডিওর বিষয়ে জাম্বিয়ান সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে — যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
এছাড়া নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে তানজানিয়া থেকে লোক পাঠানোর অভিযোগও এনেছিলেন তিনি, যা তানজানিয়া সরকার জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
শুক্রবার ভোটকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং চিহ্নিত ব্যালট পেপার চুরির কথা উল্লেখ করে জাম্বিয়ার নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা হয়েছে জানিয়ে একই দিনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।




