হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, টেলিপ্রম্পটার অপারেটর গ্যাব্রিয়েল পেরেজ আর ফেডারেল সরকারের কর্মকর্তা নন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য কাজে লাগিয়ে বাজি ধরার খবর প্রকাশের পর তাকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তাটি জানান, পেরেজ চাকরি ছেড়েছেন নাকি বহিষ্কৃত হয়েছেন— তা তিনি স্পষ্ট করতে পারেননি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানিয়েছিল, টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে পেরেজ অনলাইন পূর্বাভাস বাজার 'কালশি'-তে বড় ভাষণ, যার মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিকে দেওয়া স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতাও অন্তর্ভুক্ত, সেখানে প্রেসিডেন্ট কী বলতে পারেন তা নিয়ে বাজি ধরে এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ জিতেছেন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর চলতি মাসের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছিল যে পেরেজকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এই ঘটনাকে "গভীরভাবে দুর্ভাগ্যজনক এবং সত্যি বলতে কি, একটি লজ্জার বিষয়" হিসেবে আখ্যা দেন। অপরদিকে, ক্যালশি প্ল্যাটফর্মের আইনজীবী ও এনফোর্সমেন্ট প্রধান রবার্ট ডেনল্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে জানান, এবিসি নিউজের প্রতিবেদনের পর তাদের নজরদারি দল তাৎক্ষণিকভাবে এই বাজি কার্যক্রমগুলো চিহ্নিত করে, তদন্ত পরিচালনা করে এবং মার্কিন কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে। কমিশনটি এ ধরনের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। তবে ডেনল্ট তার বিবৃতিতে পেরেজের নাম উল্লেখ করেননি।

তদন্তে উঠে আসে, ক্যালশির "মেনশনস" নামক বাজারের সন্দেহজনক কার্যকলাপ। এই বাজারে ব্যবহারকারীরা প্রকাশ্য ভাষণে কোন বাক্যাংশ বা নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার হতে পারে তার ওপর বাজি ধরতে পারেন। সম্প্রতি ক্যালশি তাদের ব্যবহারকারীদের চাকরির স্থান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা চালু করেছে এবং প্লাটফর্মটির নীতি অনুযায়ী, কারও পেশাগত সুবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাজি ধরা নিষিদ্ধ।