শাসক দলের সংসদ সদস্য ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত এবং ছাত্র-জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসের মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। সিজেপি নেতার প্রতিবাদের জবাবে কঙ্গনা রানাউত পাল্টা মন্তব্য করতে আবারও অনলাইন জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এর আগে নিট পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী সিজেপির আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে কঙ্গনা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) হিসেবে উল্লেখ করে ‘আবর্জনার প্রজন্ম, কুৎসিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ওই মন্তব্যের পর কিছুটা ‘মানসিক নিরাময়’ ও ‘অনলাইন থেকে দূরে থাকা’ প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস তার বয়ানে জোর দিয়ে বলেছিলেন, কঙ্গনা রানাউতকে তার নিজের দলের সহকর্মীরাই বিশেষ পাত্তা দেন না। তার দাবি, জেন-জি, জেন-আলফা বা কোনো তরুণ প্রজন্মই অভিনেত্রী-রাজনীতিকের বক্তব্য শোনে না বা তাকে গুরুত্ব প্রদান করে না। সৌরভ হিমাচল প্রদেশে কঙ্গনার নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শনের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কঙ্গনা ভেবেছিলেন রাজনীতি খুব কম পরিশ্রমের কাজ, কিন্তু সংসদ সদস্যের দায়িত্ব যে বিপুল পরিশ্রমের দাবি করে, তা তিনি প যাচ্ছেন। এতেই তার প্রকৃত গুরুত্ব স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন সৌরভ।

তীব্র সমালোচনার প্রত্যুত্তরে সৌরভকে সম্পূর্ণ বেকার ও অকেজো বলে উল্লেখ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিবেশক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়া কঙ্গনা। নিজের বিশ বছরের জনজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘সৌরভের বর্তমান বয়স ২৮ বছর। এই বয়সে তার (কঙ্গনা) ঝুলিতে দুটি জাতীয় পুরস্কার ছিল।’ সৌরভের মতো একজন ‘অকেজো ও বেকার’ মানুষ কখনওই অতিরিক্ত চাহিদার মধ্যে থাকার অনুভূতি বুঝবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কঙ্গনা আরও বলেন, ‘আপনি কোনো শিক্ষার্থী নন। আপনি একেবারেই অকেজো, চলুন আগে কিছু দক্ষতা শেখা দিয়ে শুরু করা যাক।’ তার ভাষ্য, শুরু করার জন্য এটি একটি ভালো জায়গা।

এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের সময় বিক্ষোভের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি নেত্রী। বিক্ষোভে ‘অশ্লীল ভাষা’ প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে সমাজের কাছে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একাধিক পোস্ট শেয়ার করে ভিডিওগুলোর সমালোচনা করেছিলেন এবং সেগুলোকে ‘বমি ভাব উদ্রেককারী’ বলে আখ্যা দেন। শেষ পর্যন্ত সপ্তাহান্তে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা আসে।