বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২৫ সালে এক নতুন ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পুরো কৃতিত্বই চীনের, যেখানে দেশটি নিট প্রবৃদ্ধির পুরোটা এককভাবে সরবরাহ করেছে। পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির পেছনে চীনের সম্প্রসারণশীল কর্মসূচি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন পূর্ববর্তী বছরের মতো স্থিতিশীল বা অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকেছে। ইউরোপের চিত্রটি আরও নেতিবাচক, সেখানে পারমাণবিক জেনারেশন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এশীয় এই পরাশক্তিটিই ২০২৫ সালে সমগ্র বিশ্বের পারমাণবিক উৎপাদনে যে মোট নিট প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তার সবটুকু এককভাবে অর্জন করেছে।
এই পরিসংখ্যান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিতবাহক। যেখানে ইউরোপের দেশগুলো ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তির উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে এবং আমেরিকায় উৎপাদনে কোনো গতি নেই, সেখানে চীন তার উচ্চাভিলাষী পারমাণবিক প্রসার পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চীন শুধু নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনেই অগ্রগামী নয়, বরং বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধিতেও বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগামী বছরগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। পশ্চিমা বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি ও নবনির্মাণ নিয়ে জটিলতা থাকলেও, চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তা ও কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যে পারমাণবিক শক্তিকে একটি কৌশলী রূপে ব্যবহার করছে। ফলে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের মানচিত্রে একটি বড় রকমের পুনর্বিন্যাস ঘটতে চলেছে।




