বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় কে-পপ সংগীতদল বিটিএস আগামী ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে অংশগ্রহণের জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা তাদের কোটি কোটি ভক্তের জন্য এক বিস্ময়কর সংবাদ। গ্রুপের সাত সদস্য—আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক—এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
প্রকাশিত বিবৃতিতে সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, 'আমরা এ বছর গ্র্যামির জন্য কোনো সঙ্গীত জমা না দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, ভাষা বা অঞ্চলের বেড়াজাল পেরিয়ে সঙ্গীত তার নিজস্ব যোগ্যতাতেই শ্রুতি ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করবে।'
গ্রুপটির এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে আসে। মাত্র এক মাস আগে রেকর্ডিং একাডেমি ২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য 'বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স' নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিভাগ প্রবর্তনের কথা ঘোষণা করে। একাডেমির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নতুন বিভাগটি এশিয়ার স্বীকৃত পপসংগীত পরিবেশনাগুলোর শৈল্পিক সাফল্যকে বিশেষভাবে সম্মানিত করবে, যেখানে কে-পপ, জে-পপ, সি-পপসহ আরও নানা ঘরানা স্থান পাবে। তবে মনোনয়নের শর্ত হিসেবে গানের মধ্যে এক বা একাধিক এশীয় ভাষার অর্থপূর্ণ প্রয়োগ অপরিহার্য করে তোলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গীত মহলে এই নতুন বিভাগটি নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। অনেকে এটিকে এশীয় পপ সংগীতের বিশ্বব্যাপী প্রভাবের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা যুক্তি দিচ্ছেন যে এই ধরনের পৃথকীকরণের মাধ্যমে এশীয় শিল্পীদের মূলধারার প্রতিযোগিতা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘকাল ধরে গ্র্যামি পুরস্কারের পেছনে ধাবমান থেকেছে বিটিএস। পূর্বে একাধিকবার তারা মনোনয়ন লাভ করলেও, এখন পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফিটি জয়ের সৌভাগ্য তাদের হয়নি। সদ্য সামরিক প্রশিক্ষণ সমাপন করার পর চলতি বছরের মার্চে তারা 'আরিরাং' শিরোনামের একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে, যা ভক্তমহলে ও সমালোচকদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল যে এই অ্যালবাম হয়তো তাদের কাঙ্ক্ষিত গ্র্যামি জয় এনে দেবে। কিন্তু বর্তমান ঘোষণার ফলে সে সম্ভাবনা আপাতত স্থগিত হলো। গ্রুপটির এমন অভাবনীয় সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তাদের বিশাল অনুরাগী গোষ্ঠী বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করছে।



