ভারতের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে তাঁদের অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার সময় দিল্লি পুলিশের বাধার মুখে পড়লেও মঙ্গলবার ভোর থেকে আবারও ধরনামঞ্চে ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারীরা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের মতে, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। তবে নতুন করে সংসদ অভিযানে নামবেন না তাঁরা, কারণ এতে পুলিশ আন্দোলনকে বদনাম ও আক্রমণ চালানোর সুযোগ পাবে বলে তাদের ধারণা।
সিজেপির প্রথম দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুককে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। তৃতীয় দাবি, আন্দোলনকালে আত্মহত্যা করা ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেক পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। গতকালের ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিজিৎ এক্স হ্যান্ডেলে আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, পুলিশের নৃশংসতা থেকে তাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেই এই সংকটের অবসান হতো, কিন্তু সরকার নির্লজ্জ আচরণ করছে।
সোমবারের পদযাত্রায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ পাঁচটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। পুলিশ দাবি করছে, তাঁদের ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিজেপির দাবি, শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। সরকারি একটি সূত্র স্বীকার করেছে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ যে সংসদের দিকে এগিয়ে আসবেন—তা পুলিশ বা সরকার কেউই কল্পনা করেনি। তাদের হিসাবে, অন্তত ৫০ হাজার আন্দোলনকারী অংশ নিয়েছিলেন, যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সংসদের সবচেয়ে কাছের ও বড় বিক্ষোভ।
বিরোধী দলগুলো এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা ভদ্র রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখতে যান। সেখানে রাহুল গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নীরব। আম আদমি পার্টির (আআপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের অন্যান্য নারাও হাসপাতালে যান এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। সিজেপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়, যেখানে তাঁরা উপরোক্ত তিন দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। নাড্ডা নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে সিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির কথা বলেন এবং ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, ভুল পথে যাওয়া সহজ, সঠিক পথে থাকা কঠিন; তাঁদের কর্তব্য ছাত্রদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।




