পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে। দলটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী ২১ জুলাই শহীদ দিবসের সমাবেশেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। মঙ্গলবার দলটির তিনটি অংশই আলাদা আলাদা স্থানে শহীদ দিবস পালন করে, যা ছিল ব্যতিক্রমী।

কলকাতার বিড়লা তারামন্ডলের কাছে মূল তৃণমূল কংগ্রেসের সমাবেশে নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, 'আমরাই আসল তৃণমূল। চোরেরা সব বিজেপিতে গেছে। ওরা শিবির বদলু ইঁদুর।' তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বুলডোজার ও ভোট লুটের সরকার এবং তিনি রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। মমতা অভিযোগ করেন, দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ৪০০ মামলা করা হয়েছে, কিন্তু জনগণ তাদের পাশে থাকায় তারা ভয় পান না। তিনি দাবি করেন, নেতারা চলে গেলেও কর্মীরা তার সঙ্গেই আছেন এবং তারাই তার প্রকৃত শক্তি।

মমতা তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, 'বাংলাটা বাংলায় নেই, লুম্পেনদের হাতে চলে গেছে। আবার ব্যাট-বলে খেলা হবে রাজপথে।' তিনি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তারা তা মেনে নেবেন না। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেলে যেতে হলেও যেতে হবে, কারণ জেলের ভাত খাওয়া বিজেপির ভাতের চেয়ে ভালো।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী শাখার নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে আলাদা মঞ্চে সমাবেশ করেন। তিনি সেখানে দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেন, 'এত দিন দলের কর্মীরা মর্যাদা পাননি। এবার সময় এসেছে দলকে স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে মুক্ত করার।' তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকি দেওয়ার নীতিকে দল ভাঙনের জন্য দায়ী করেন।

কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন তৃতীয় অংশটি এনসিপিআইয়ের ব্যানারে শহীদ দিবস পালন করে। কলকাতায় নয়, তারা দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে এই উপলক্ষে সমাবেশ করে। এ ছাড়া জাতীয় কংগ্রেস কলকাতার শহীদ মিনারে একটি পৃথক সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে রাজ্য সচিবালয় অভিমুখে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর শহীদ দিবস পালন করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবারের সমাবেশ দলের বিভক্তির কারণে ভিন্ন মাত্রা পায়।