সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে 'হাইড্রেশন ব্রেক' শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। অনেক দর্শক এই বিরতিকে খেলার গতি ও সৌন্দর্য নষ্ট করার কারণ হিসেবে দেখলেও, এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব অপরিসীম। বাস্তবতা হলো, তীব্র তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, যা শুধু ফুটবল নয়, প্রায় সব ধরনের খেলাধুলাতেই দেখা যায়।
গবেষণা বলছে, শরীরে মাত্র ২ শতাংশ পানির ঘাটতি হলেই একজন অ্যাথলেটের কর্মক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। প্রথমেই শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়, ফলে খেলোয়াড় দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পেশিতে টান ধরতে পারে, দৌড়ানোর গতি ও সহনশীলতা কমে যায়। একইসঙ্গে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়ার গতি হ্রাস পায়, যা ভুল পাস, ভুল শট বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি বাড়ায়। এতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
হাইড্রেশন ব্রেকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা। পর্যাপ্ত পানি শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখে, ফলে তাপ-অবসাদ বা হিটস্ট্রোকের মতো জটিলতার ঝুঁকি কমে। দীর্ঘ সময়ের খেলা বা অনুশীলনে শুধু পানি নয়, প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয়ও উপকারী হতে পারে, কারণ ঘামের সঙ্গে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ বেরিয়ে যায়।
শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট, টেনিস, ম্যারাথন, সাইক্লিং, অ্যাথলেটিকস, রাগবি কিংবা স্কুল-কলেজের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও পরিবেশ ও খেলার তীব্রতা বিবেচনা করে হাইড্রেশন ব্রেক দেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু, কিশোর ও বয়স্ক ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কারণ তাঁদের শরীর অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে না।
তবে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করাই ভালো, কারণ তৃষ্ণা অনুভূত হওয়ার অর্থ শরীরে পানির ঘাটতি শুরু হয়ে গেছে। তাই খেলার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা, খেলার সময় নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি বা ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় গ্রহণ করা এবং খেলা শেষে হারানো তরল পূরণ করা—এসবই ভালো হাইড্রেশন কৌশলের অংশ।
আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের ঘটনা বাড়ছে। তাই হাইড্রেশন ব্রেককে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার বৈজ্ঞানিক ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত। সঠিক সময়ে কয়েক মিনিটের এই বিরতি একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ করে।




