ভ্যালেন্তিনা সারভান্তেস সম্প্রতি জানিয়েছেন, এনজো ফার্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল করার পর দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া সম্ভব, কিন্তু তৃতীয় আর নয়। ২০২৫ সালে বিচ্ছেদের পর আবার এক সংসারে মিলিত হন তারা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন করে এক হওয়ার সিদ্ধান্তটি মোটেই সহজ ছিল না। ভুল করার অধিকার সবার আছে, তবে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তাঁর মতে, দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া যায়, তৃতীয় নয়। বর্তমানে বিশ্বকাপ মাতানো ফার্নান্দেজ মাঠে নিজের দক্ষতা দেখাচ্ছেন, আর গ্যালারিতে ভ্যালেন্তিনা তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন, যা দলকে এগিয়ে রাখে। এখন শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফাইনালে নামবেন তাঁরা, আর সেখানে বিশেষ নজর থাকবে ফার্নান্দেজের দিকে।
এনজো ও ভ্যালেন্তিনার সম্পর্কের সূত্রপাত ২০১৮ সালে। বুয়েনস এইরেসের সান মার্তিন এলাকায় দুজনের শৈশব কেটেছে। সমুদ্রসৈকতে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তাদের প্রথম দেখা। স্কুলপড়ুয়া বয়সের সেই আলাপ শিগগিরই ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। কিছুদিনের মাঝেই তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
সেই সময়ে ফার্নান্দেজ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের আগে কঠিন সময় পার করছিলেন। রিভার প্লেটের একাডেমিতে তাঁর খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্যালেন্তিনা নানা পেশায় অর্থ উপার্জন করতেন। কখনো খাবারের দোকানে, আবার কখনো কল সেন্টারে কাজ করে সংসারের খরচ চালাতেন। প্রয়োজনীয় পোশাকের জন্য তারা ফেসবুক থেকে পুরোনো জিনিস কিনতেন। ভ্যালেন্তিনা জানান, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল এনজো যেন বিনা বাধায় খেলায় মনোযোগ দিতে পারেন।
২০২০ সালে এই জুটি প্রথম সন্তানের বাবা-মা হয়। এনজোর বয়স তখন ১৯ বছর। কন্যার নাম রাখা হয় অলিভিয়া। এরপর ২০২৩ সালে জন্ম হয় পুত্র বেনজামিনের। একই সময়ে ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান ফার্নান্দেজ। ২০২১ সালে প্রথম জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব চেলসির হয়ে খেলছেন।
২০২৪ সালে সম্পর্কে ফাটল ধরে। দুজনেই আলাদাভাবে জানান, তারা আর একসঙ্গে নেই, তবে সন্তানদের দায়িত্ব দুজনেই নেবেন। বিচ্ছেদের পর ভ্যালেন্তিনা সন্তানদের নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান। আর ফার্নান্দেজ ইংল্যান্ডে থেকে চেলসির হয়ে খেলা চালিয়ে যান। তৃতীয় পক্ষের গুঞ্জন না থাকলেও, সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কম বয়সে দুই সন্তানের বাবা হওয়ার মানসিক চাপই এর পেছনে কারণ ছিল। এ ঘটনায় ভক্তদের সমালোচনার মুখোমুখি হন তিনি।
ভ্যালেন্তিনা ইতিমধ্যে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। ফার্নান্দেজের সঙ্গীর বাইরে তিনি একজন ইনফ্লুয়েন্সার ও মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিন মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার নিয়ে নানা ব্র্যান্ডের প্রচারণা ও ফ্যাশন ফটোশুট করেন। ভবিষ্যতে নিজের ফ্যাশন হাউস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
২০২৫ সালে এসে আরেকবার এক সংসারে মিলিত হন এনজো ও ভ্যালেন্তিনা। সম্পর্কটি নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। চলতি বিশ্বকাপেও ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর গোল দলকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। গ্যালারিতে ভ্যালেন্তিনা দুই সন্তানকে নিয়ে তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে, আর সেখানে সবার নজর থাকবে এই মিডফিল্ডারের ওপর।




