আদালতের কার্যক্রমে তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। পটুয়াখালীর টেন্ডার নং–৫০৮১১ সংক্রান্ত সাকিব ওরফে সাকিব হাসান লিটন নামের এক আসামির জামিন আবেদনটি আজকের কার্যতালিকায় ১৫ নম্বর ক্রমিকে ছিল।
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ আদালতের নজরে আনেন যে, এই মামলায় তথ্য গোপন করা হয়েছে। এরপর আদালত জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ জানান, গত ২৬ জুলাই এই বেঞ্চে জামিন আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছিল এবং এটি নিয়মিতভাবে কার্যতালিকায় আসছিল। এরপরও একই টেন্ডার নম্বরে আবেদনটি হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে জমা দেওয়া হয়, যা ৩ আগস্ট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি টেন্ডার নম্বরে শুধু একটি কোর্টেই মামলা চলতে পারে। কিন্তু এই বেঞ্চে আবেদন থাকা সত্ত্বেও অন্য বেঞ্চে দাখিল ও তা বাদ দেওয়ার তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
বিষয়টি নজরে এলে আদালত আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমানকে ব্যাখ্যা চান। তবে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। ফলে আদালত আবেদনটি খারিজ করে ওই আইনজীবীকে জরিমানা করেন।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালতের কাছে সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা প্রতিটি আইনজীবীর মৌলিক পেশাগত দায়িত্ব। একই বিষয়ে একাধিক বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করা বা পূর্বের কার্যক্রম গোপন করে আদালতের রায় প্রভাবিত করার চেষ্টা কেবল পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন নয়, বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকেও ক্ষুণ্ন করে।




