বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার রাত নয়টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র্যাডিসন ব্লু বে ভিউতে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই পরামর্শ দেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৬০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদেরকে সততা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে চলার উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যেন কোনো দখল-বেদখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকেন যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নেতা-কর্মীদেরকে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ, বিশেষ করে সম্প্রতি হৃদরোগের রিংয়ের দাম কমানো এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি জনগণের কাছে প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রেজাউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তাঁরা দলের স্বার্থে ভালোভাবে কাজ করেন এবং দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আলট্রাসুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন।
মহেশখালী থেকে হেলিকপ্টারে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট, যাতে দুটি কক্ষ এবং একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় এসব ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর দোয়া প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন। এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।




