বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি তিন চাকার যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইয়াসির আরাফাত; তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইয়াসির আরাফাতসহ মোট ছয়জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়; পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মামুন আর রশিদ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরপরই বিকেলে প্রথম দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তখন তাঁরা চার দফা দাবি পেশ করেন। উপাচার্যের আশ্বাসে রাত পৌনে ১০টার দিকে প্রথম দফার কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু রাত পৌনে ১১টার মধ্যে ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে আবারও মহাসড়কে নামেন শিক্ষার্থীরা এবং দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু করেন। রাত ১১টা পর্যন্ত এ অবরোধ অব্যাহত ছিল বলে জানা যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সড়কের জীর্ণ অবস্থাই আজকের এ দুর্ঘটনার মূল কারণ। শিক্ষার্থীরা দ্রুত দপদপিয়া সেতুসহ সংলগ্ন মহাসড়কের পিচঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটি অবহেলিত; প্রশাসনের নজরদারির অভাবে আজ প্রাণ হারাতে হলো একজন শিক্ষার্থীকে। তাঁদের চার দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলতে থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রাস্তায় রক্ত না ঝরলে কারও নজর পড়ে না। দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানান তিনি। এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপাচার্য মামুন আর রশিদ। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সব দাবি শোনা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সড়ক অবরোধের কারণে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের উভয় পাশে বহু যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।




