ভারতের সংসদের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানটিতেও পৌঁছে গেছে তরুণ প্রজন্মের ভাষা। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার লোকসভায় আলোচনার সময় জেন জি-র প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্যরা।

ককরোচ জানতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরীক্ষা ফাঁসবিরোধী আইন পাসের বিতর্ক চলাকালে শিবসেনার সাংসদ শ্রীকান্ত শিন্ডে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা ‘এমআইএ’ বা অনুপস্থিত এবং ‘এফওএমও’ বা কিছু মিস করার ভয়ে ভুগছেন, শেষ পর্যন্ত তারা ‘ডেলুলু’ বা বাস্তববিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিং হুডা সরকারকে বিদ্রুপ করে আন্দোলনের সময় জনপ্রিয় ‘ওয়েস্ট-গুনা-হুইয়া’ মিমটি ব্যবহার করেন।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বাঁশুরী স্বরাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইনটি প্রণয়নের মাধ্যমে ‘ক্লকড ইট’ বা সঠিক সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। তার সহকর্মী তেজস্বী সূর্য বিরোধীদের ‘ডেলুলু’ বলে অভিহিত করে বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকার সময় একই ধরনের সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিরোধী নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে কিছুক্ষণের জন্য বিতর্কের বাইরে এসে মুহূর্তের অদ্ভুততা লক্ষ্য করে বলেন, ‘কেন আমরা জেন জি-র ভাষায় কথা বলছি?’ কিছুক্ষণ পরই তিনি নিজেও ‘ডেলুলু’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল অনলাইনে, মিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে। সিজেপি একটি ব্যঙ্গাত্মক ইন্টারনেট সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে, কিন্তু পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তরুণদের সমর্থনে তা বেকারত্ব, প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে পরিণত হয়। আন্দোলনের রাজনীতি ‘ফিট চেক’, ‘গেট রেডি উইথ মি’ ভিডিও, ফার্স্ট-পারসন ভ্লগ ও মিমের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সরকারের প্রতিক্রিয়াও একই প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সেলফি স্টাইলের ভিডিও ও তরুণদের সরাসরি আবেদন জানিয়ে ডিজিটাল লড়াইয়ে নামেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল বর্মা সতর্ক করে বলেছেন, একটি সংসদীয় বিতর্কের ভিত্তিতে খুব বেশি কিছু অনুমান করা ঠিক নয়। রাজনীতিবিদরা সবসময় জনপ্রিয় সংস্কৃতির ভাষা ধার করেছেন। ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন ও সিনেমার ভাষাও আগে সংসদে এসেছে। ২০১৯ সালে ‘হাউজ দ্য জোশ’ স্লোগানটি সিনেমা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিল।

ডিজিটাল নৃবিজ্ঞানী পায়েল অরোরা মনে করেন, ভাষা প্রায়ই প্রথম জিনিস যা রাজনীতি নতুন ভোটারদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ধার করে। কিন্তু একটি প্রজন্মের শব্দভাণ্ডার ধার করা ‘সাংস্কৃতিক সচেতনতা’ নির্দেশ করে, রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়।

প্রতিবাদ শেষ হওয়ার পরও সরকার আন্দোলনের ডিজিটাল অস্তিত্ব নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করছে। কর্তৃপক্ষ কিছু প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণের চেষ্টা করছে, পুলিশ বেশ কয়েকজন ছাত্র ও কর্মীকে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিজেপি নেতারা সরকারকে প্রতিবাদীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ করে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

একজন সিজেপি প্রতিবাদকারী বলেন, ‘আমাদের ভাষায় কথা বললে আমরা প্রভাবিত হব না। অর্থপূর্ণ পরিবর্তন ছাড়া রাজনীতিবিদদের আমাদের অনুকরণ করা বিরক্তিকর। আমরা তাদের আমাদের মতো কথা বলতে বলিনি, আমরা তাদের কথা শুনতে বলেছি।’