সুদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার বাসিন্দার জন্য বর্তমানে নিরাপদ কোনো বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক নেতারা। র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামে পরিচিত আধাসামরিক বাহিনীর যোদ্ধারা শহরটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক নেতাদের মতে, আরএসএফ সম্ভবত শহরটিতে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে আরও ব্যাপক নৃশংসতা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার হামলার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে যে শহরটি হুমকির মুখে রয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যেই সংঘাতের কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু আরএসএফের অগ্রগতির কারণে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ পথ বা স্থান নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানালেও কার্যকর কোনো সমাধান এখনো দেখা যায়নি।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আরএসএফের কার্যকলাপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে আরএসএফের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সুদানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের দীর্ঘদিনের সংঘাত দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই শহরটির পতন হলে সেখানকার লাখ লাখ বাসিন্দা আরও বিপদের সম্মুখীন হবে।

আন্তর্জাতিক নেতারা আরএসএফের এই অগ্রযাত্রাকে ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সংঘাত আরও তীব্র হলে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।