২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে হঠাৎ থমকে যান, যা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু সহজেই আটকে দেন। এই কৌশলটি বিশ্ব ফুটবলে বেশ পরিচিত—নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারা এটি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বিবিসির তথ্যমতে, এবারের বিশ্বকাপে টাইব্রেকারসহ মোট ২৬টি পেনাল্টি এই থমকে যাওয়া পদ্ধতিতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টিতেই গোল হয়নি। অর্থাৎ সফলতার হার মাত্র ৫৭ শতাংশ। অন্যদিকে, স্বাভাবিক গতিতে দৌড়িয়ে নেওয়া ৩৫টি পেনাল্টির মধ্যে ২৪টিতে গোল হয়েছে, যা ৬৮ শতাংশ সফলতার পরিচয় দেয়।
আর্সেনালের কিংবদন্তি ইয়ান রাইট আইটিভিকে মন্তব্য করেন, ‘মনে হচ্ছে গোলরক্ষকেরা এই কৌশলের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি বুঝে ফেলেছেন।’ তার মতে, থমকে যাওয়ার সময় স্ট্রাইকারের সিদ্ধান্তে দ্বিধা তৈরি হয়, যা গোলরক্ষকের পক্ষে সুবিধাজনক। এমবাপ্পের মিসের পেছনে আরেকটি কারণ ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিএআর পর্যালোচনার কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজার পর প্রায় ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড পর শট নিতে হয় তাকে। আয়ারল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার রয় কিন এই বিষয়ে বলেন, ‘তিন মিনিটের বেশি অপেক্ষা স্ট্রাইকারের জন্য মারাত্মক। এই সময় গোলরক্ষক ও প্রতিপক্ষ দলের পক্ষে যায়।’ ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে নিজেও স্বীকার করেন, দীর্ঘ অপেক্ষায় তার মনঃসংযোগ নষ্ট হয়েছিল।
তবে শুধু এমবাপ্পেই নন, চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, ব্রুনো গিমারাইস ও জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেনও একই কৌশলে পেনাল্টি মিস করেছেন। মজার বিষয় হলো, কেইন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টিতে থমকে না গিয়ে সরাসরি শটে গোল করেন। বিশ্বকাপে এবার পেনাল্টি মিসের হার ৩০ শতাংশ, যা ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টাইব্রেকার যোগ করলে এই হার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ—যেকোনো বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু পেনাল্টি সেভে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিশ্বকাপে টাইব্রেকারসহ ৯টি পেনাল্টির মুখোমুখি হয়ে তিনি মাত্র ২টি গোল হজম করেছেন। বাকি ৭টির মধ্যে ৪টি সেভ, ২টি পোস্টে লেগেছে এবং একটি পোস্টের বাইরে ছিল। এই সাফল্যে তিনি টনি শুমাখার, গয়কোচিয়া, ইকার ক্যাসিয়াস ও ডোমিনিক লিভাকোভিচের সমান সর্বোচ্চ পেনাল্টি সেভের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পের এটি দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। জাতীয় দলে তার পেনাল্টি সাফল্যের হার ১৬টির মধ্যে ১৪টি গোল, আর ক্লাব ফুটবলে ৬২টি পেনাল্টির ৫০টিতে তিনি সফল।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বল কিক করার ঠিক আগমুহূর্ত ছাড়া দৌড়ানোর যেকোনো পর্যায়ে খেলোয়াড় গতি কমাতে পারেন। অতীতে জন অলড্রিজ, হুগো সানচেজ ও পেলের মতো তারকারা এই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে বর্তমান বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, গোলরক্ষকেরা এখন এই পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই কৌশল থেকে সরে আসার সময় কি এখন? পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলা যায়, মার্কো আরনাউতোভিচ, নেইমার, এমবাপ্পে (অন্য ম্যাচে), রোনালদো ও কাই হাভার্টজ একই কৌশলে গোল করেছেন। কিন্তু সামগ্রিক সাফল্যের হার সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে কম হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।




