২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপজুড়ে অফিসিয়াল ম্যাচ বল ট্রিওন্ডা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই গোলরক্ষকরা বিশেষ করে কাঁধের উচ্চতায় আসা শটগুলো ঠেকাতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন। বলটি স্পর্শ করেও অনেক সময় তা জালে জড়ানো থেকে আটকাতে পারছেন না তারা। এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন ইংলিশ গোলরক্ষক জো হার্ট। তিনি জানান, ট্রিওন্ডার গতিপথ আগেভাগে বোঝা প্রায় অসম্ভব। খেলোয়াড়রা যখন স্পিন ছাড়াই প্রবল বেগে শট নেয়, তখন বল বাতাসে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। গোলরক্ষকদের বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যেন এই বলের সামনে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে কাঁধের সমান উচ্চতায় আসা শট নিয়ে। জো হার্টের মতে, এই উচ্চতায় শট সামলানো বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। গোলরক্ষক বল হাতে লাগাতে পারলেও শেষ মুহূর্তের অদ্ভুত গতিপথ পরিবর্তনের কারণে তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। পুরো বিশ্বকাপজুড়েই এই প্রবণতা বারবার চোখে পড়ছে, যা গোলরক্ষকদের হতাশ করছে।
বলের নকশা এই সমস্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রিওন্ডা মাত্র চারটি প্যানেল দিয়ে তৈরি এবং এর সেলাই বাইরের পরিবর্তে ভেতরে রাখা হয়েছে। ফলে বলের বহির্ভাগ বেশ মসৃণ। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের দাবি, এই প্রযুক্তি বলকে আরও স্থিতিশীল করে। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের অভিমত, এই মসৃণ গঠন ও অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি উচ্চগতিতে বলের আচরণকে ভিন্ন করে তোলে। বিশেষ করে দূরপাল্লার শটে বল গোলরক্ষকের ধারণার চেয়ে বেশি দ্রুত এবং ভিন্ন পথে আসে।
ট্রিওন্ডার এই অনিশ্চিত আচরণ আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ২০১০ সালের জাবুলানি বলের কথা, যা নিয়েও তুমিল বিতর্ক হয়েছিল। ডেনমার্কের সাবেক গোলরক্ষক ক্যাসপার শ্মাইকেল মন্তব্য করেছেন যে এই বল যেন গোলের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরাও বলছেন, ট্রিওন্ডার বায়ুগতিবিদ্যা প্রচলিত বলের চেয়ে আলাদা, যার ফলে দ্রুতগতির শটে শেষ মুহূর্তের গতিপথ অনুমান করা গোলরক্ষকদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপে গোলের বন্যা দর্শকদের জন্য আনন্দদায়ক হলেও গোলরক্ষকদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে কঠিন পরীক্ষা। ম্যাচের ফল এখন শুধু ফুটবলারদের দক্ষতার উপর নয়, বরং অনেকটাই নির্ভর করছে এই রহস্যময় বলটির আচরণের উপর। ট্রিওন্ডা আরও কত গোল ও বিতর্কের জন্ম দেবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।




