২০৪৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরুর প্রাক্কালে একটি কাল্পনিক দেশ আন্দিরার অস্বাভাবিক প্রস্তুতি আলোচনায় আসে। দেশটি দাবি করে, তারা ২০২২ ও ২০২৬ সালের সেরা ফুটবলার যেমন মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড ও হাকিমির ক্লোন তৈরি করেছে। প্রতিটি তারকার দুটি করে ক্লোন তৈরি করা হয়, যাদের নাম দেওয়া হয় লিং, পিং-এর মতো। এই ক্লোন শিশুদের ২০২৩ সালে একটি একাডেমিতে ২০০ জন মা ও বাবা নিযুক্ত করে লালন-পালন করা শুরু হয়। পাঁচ বছর বয়স থেকে তারা ফুটবল প্রশিক্ষণ পায় এবং ১০ বছর বয়স থেকে আটটি দলে বিভক্ত হয়ে টুর্নামেন্ট খেলে। ২০৪৩ সালে সবার বয়স ২৩ হলে তারা আন্দিরার ভাষায় কথা বলে ও গান গায়।
এদিকে, ৫৯ বছর বয়সী আসল লিওনেল মেসি আপত্তি জানিয়ে বলেন, 'হুবহু আমার ২৩ বছর বয়সী সংস্করণ মাঠে খেলছে, এটি কেবল ক্লোনের মাধ্যমেই সম্ভব। মানুষের ক্লোন করা বিশ্বে নিষিদ্ধ, তাই আন্দিরাকে নিষিদ্ধ করা উচিত।' ফিফা সভাপতি জনসন দ্বিধায় পড়েন কারণ আন্দিরা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ—তাদের টাকা, জ্ঞান ও অস্ত্রশস্ত্র অতুলনীয়। তারা হুমকি দেয়, যদি তাদের দলকে খেলতে না দেওয়া হয়, তাহলে তারা রোবট বাহিনী পাঠিয়ে বিশ্বকাপ ভন্ডুল করে দেবে এবং ফিফা কমিটিকে গুম করবে।
জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে আন্দিরার ক্লোন পিন ইয়াং (এমবাপ্পের মতো দেখতে) মর্মস্পর্শী বক্তৃতা দেয়। সে বলে, 'আমরা আমাদের জন্মের জন্য দায়ী নই। আমরা মানব শিশু, আমাদের ফুটবল খেলার অধিকার চাই। আপনারা কি কখনো মেসির জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন তিনি এলিয়েন কি না?' শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘ আন্দিরাকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়। তবে মেসি, এমবাপ্পে ও হলান্ডের আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্বকাপে আন্দিরা প্রথম রাউন্ড পেরিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারেনি।
প্রথম আলোর ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ ৭৯ বছর বয়সী উৎপল শুভ্র বিশ্লেষণ করে লেখেন, 'আন্দিরা যদি অতীতের সেরা খেলোয়াড়দের ক্লোন বানিয়ে থাকে, তবে তারা ভুলে গেছে যে ২০৪৬ সাল। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় যেমন ডিউক, কালনা, শাম্প্রা, দাবিরেরা ২০ বছর আগের সেরাদের চেয়ে সর্বাংশে উন্নত। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির চেয়ে পাবলো পিকাসো কম প্রতিভাবান নন—প্রত্যেকে নিজ যুগের সেরা। মেসি একসময় মাঠে মোনালিসা এঁকেছেন, এখন পিকাসোর গুয়ের্নিকা আঁকা হচ্ছে।' লেখাটি প্রকাশের পর আন্দিরার দূতাবাস থেকে প্রথম আলোতে ফোন আসে যে ক্লোনের কোনো প্রমাণ নেই এবং পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। উৎপল শুভ্র লেখা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, 'বিদেশি দূতাবাসের ফোনে লেখা গিলে খাওয়ার চেয়ে লাফ দেওয়া শ্রেয়। সংবাদমাধ্যমে কাজ করা দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে—এআই যুগে চাকরি নেই, তার ওপর এত হস্তক্ষেপ। ফুটবল বা ক্রিকেটে এখনো মানুষের কোনো বিকল্প নেই।'
গল্পের শেষে উল্লেখ করা হয় যে আন্দিরার প্রায় ১০০ যুবক ক্লোন কোথায় গেছে তা কেউ জানে না। মেসি ও এমবাপ্পের প্রতিটি দুইটি ক্লোনের একটি দলে খেলেছে, অন্যটি নিখোঁজ।




