ভিডিও গেম জায়ান্ট নিন্টেন্ডো তাদের সুইচ ২ কনসোলের দাম বৃদ্ধির ঘটনায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ট্যারিফ ফেরতের দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে। সম্প্রতি দায়ের করা একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি আদালতে যুক্তি দিয়েছে, ক্রেতারা “ঠিক যার জন্য দরকষাকষি করেছিলেন এবং মূল্য দিয়েছিলেন” তা পেয়েছেন, ফলে পুনরায় কোনো অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার তাদের নেই।

গত এপ্রিল মাসে একদল ভোক্তা নিন্টেন্ডোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, কোম্পানিটি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং একইসাথে সেই শুল্ক ফেরত পাওয়ার জন্যও আদালতে মামলা করেছে, যার ফলে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠানটি দ্বিগুণ মুনাফা আদায় করছে। নিন্টেন্ডোর আইনজীবীরা এই যুক্তিকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ভোক্তারা কখনোই দাম সমন্বয়কে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেননি এবং কোম্পানি কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যও প্রদান করেনি।

নিন্টেন্ডো তাদের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘বাজারের অবস্থার প্রতি সাড়া’ বলে বর্ণনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুল্কের পাশাপাশি মেমোরি, শ্রম ও শিপিং খরচ বৃদ্ধির কারণেও এই মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। সোমবার আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে নিন্টেন্ডো আরও জানায়, তারা বা তাদের খুচরা বিক্রেতারা প্রতিটি পণ্যের জন্য একটি মূল্য নির্ধারণ করে এবং গ্রাহকরা সেই মূল্য পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন। যারা পণ্য কিনেছেন, তারা উভয় পক্ষের সম্মত মূল্যে একটি কনসোল, গেম বা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পেয়েছেন।

এই খবরের প্রভাবে মঙ্গলবার টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জে নিন্টেন্ডোর শেয়ারের দাম ৪ শতাংশ কমে যায়।

শুধুমাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে ট্যারিফ ফেরত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাক্রিস মার্চ মাসে জানান, তারা শুল্ক ফেরতকৃত অর্থ ‘কম দাম ও উন্নত মানের’ মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে। ফেডেক্স বলেছে, তারা সেই শিপার ও গ্রাহকদের ফেরত দেবে যারা মূলত শুল্ক পরিশোধ করেছিলেন। একইভাবে ইউপিএস-ও শুল্ক সংক্রান্ত চার্জ গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে, ফোর্ড, যারা ট্যারিফ ফেরত না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মিশিগানে একটি প্রস্তাবিত ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের হয়েছে। ভোক্তারা দাবি করছেন, তারাও ফেরত পাওয়ার যোগ্য। ফোর্ড আগেই এককালীন ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮০টিরও বেশি দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের একদিন পরেই নিন্টেন্ডো তাদের আসন্ন সুইচ ২ কনসোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করায় প্রায় ৩ লাখ আমদানিকারকের জন্য ১৬৬ বিলিয়ন ডলার ফেরতের পথ তৈরি হয়েছে, যার ফলে নিন্টেন্ডোর মতো অনেক কোম্পানি শুল্ক ফেরতের জন্য মামলা করছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে এই ফেরত কেবলমাত্র মার্কিন আমদানিকারকদেরই উপকৃত করবে। ইউবিএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডোনোভান এ বছর শুরুতে লিখেছেন, “কেউই ভোক্তাদের জন্য দাম কমাতে তাড়াহুড়ো করবেন বলে মনে হচ্ছে না।”