সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহতের হার ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে এই অগ্রগতি দেশভেদে ভিন্ন—নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে উন্নতির ছোঁয়া প্রায় পৌঁছায়নি। ল্যানসেট পাবলিক হেলথ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এখনও সড়ক দুর্ঘটনায় ৯০ শতাংশ মৃত্যু ঘটে। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের গবেষকরা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও মোটরচালিত যানের ব্যবহার বাড়লেও এসব দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই হারে উন্নত হয়নি। যেমন, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে সিট বেল্ট বাধ্যতামূলক এবং গাড়িতে এয়ার ব্যাগের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণ, কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশে এসব এখনও বিরল। গবেষণার প্রধান লেখক লিয়ান ওং এক বিবৃতিতে বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনার ফলাফল শুধু সংঘর্ষের ওপর নির্ভর করে না, বরং সেগুলো প্রতিরোধ ও সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করে।'

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সোমবার তাদের নিজস্ব তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২১ শতাংশ কমেছে। কিন্তু গত বছর সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখনও সড়ক দুর্ঘটনা। পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং গাড়ি, ট্রাকসহ অন্যান্য যানের আরোহীরা এই মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। কিছু দেশে সম্পূর্ণ তথ্য না থাকায় গবেষকরা উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক দশকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছিল, ২০২১ সালে তা ৪৩ হাজারের বেশি ছুঁয়েছিল। তবে জাতীয় হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে তা কমতে শুরু করে এবং গত বছর প্রায় ৩৬ হাজার ৬০০ জন মারা গেছে। তবুও, গবেষণায় লেখকরা উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে লম্বা ও বড় যাত্রীবাহী গাড়ির প্রসার এবং 'বিভ্রান্ত ড্রাইভিং' (যেমন মোবাইল ফোন ব্যবহার) প্রতি বছর হাজার হাজার মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। গভর্নরস হাইওয়ে সেফটি অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কমেছে। এটি মহামারীর পর থেকে পথচারী মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় বার্ষিক হ্রাস, তবে সংখ্যাটি এখনও কোভিড-১৯-এর আগের স্তরের চেয়ে বেশি।

ডব্লিউএইচও দুই দশকেরও বেশি আগে সড়ক নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এই গবেষণার প্রকাশের সময় নিউ ইয়র্ক সিটিতে জাতিসংঘের একটি উচ্চ-পর্যায়ের দুই দিনের সভা শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশে পথচারী ও যানবাহনের আরোহীদের মৃত্যু সময়ের সঙ্গে বেড়েছে, তবে সাম্প্রতিক তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু কমেছে। গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, সম্পূর্ণ তথ্যের অভাবে কিছু অঞ্চলে প্রকৃত চিত্র ধরা না পড়লেও বৈশ্বিক প্রবণতা স্পষ্ট।