সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের তুলনায় রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে, শয্যা থেকে শুরু করে বারান্দা ও মেঝেতে ভিড় ঠাসা রোগীর ভিড় দেখা যাচ্ছে। গত শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতালে মোট ৮৯১ জন রোগী ভর্তি ছিলেন, যা হাসপাতালের মোট শয্যার সংখ্যার প্রায় তিনগুণ বেশি। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ; সেখানে ৫০টি শয্যার বিপরীতে ২২৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন, যার অনেকে মেঝেতে শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। হাসপাতালের নার্সদের মতে, ভিড়ের চাপে অনেক রোগীর নাম নিবন্ধন খাতায় পর্যন্ত লেখা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালের জনবল খতিয়ে দেখা গেছে, এখানে চিকিৎসকের মোট পদ ৭৪টি থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন, ফলে ৫১টি পদ শূন্য পড়ে আছে। একইভাবে ২৬৩টি নার্স পদের মধ্যে ৭০টি শূন্য এবং ১৩৬টি টেকনিক্যাল পদের মধ্যে ৮৮টি শূন্য। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের অভাব রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন রোগী সেবা নিতে আসছেন, যা বিদ্যমান সীমিত জনবলের পক্ষে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন চরম সংকটের মাঝেও সম্প্রতি পাঁচজন চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য যে, ওই মেডিকেল কলেজটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আহম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, আরও কিছু চিকিৎসকের বদলি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

হাসপাতালে আসা রোগিদের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে তাদের কথায়। দিরাই উপজেলা থেকে আসা জহুরুল ইসলাম তার তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে চার দিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম তার সাত মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে থাকলেও কোনো শয্যা পাননি; ফলে তাকে দিনের বেলা চিকিৎসা নিতে এসে রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে হয়। ১০ বছর বয়সী এক রোগীর বাবা শাহ আলম জানান, ভিড়ের কারণে তিনি চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতেই পারছেন না।

নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, রোগীর চাপ তিন থেকে চার গুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রায়ই রোগীদের স্বজনদের দুর্ব্যবহারের শিকার হন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি কানিজ সুলতানা এই পরিস্থিতিকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যেখানে চিকিৎসক বাড়ানো প্রয়োজন, সেখানে আরও লোক কমানোটা দুঃখজনক। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানান তিনি।