প্রতিদিনের বাজারে বা সুপারমার্কেটে প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবারের ছড়াছড়ি, কিন্তু এই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কি আদৌ সবার জন্য স্বাস্থ্যকর? সাম্প্রতিক এক গবেষণা পর্যালোচনা বলছে, যারা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম কম করেন, তাদের জন্য এই বর্ধিত প্রোটিন গ্রহণ নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সাড়ে তিন শতাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত এই পর্যালোচনাটিতে দেখা গেছে, ব্যায়ামহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত অনেকের জন্য প্রোটিনের ব্যবহার বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোই মঙ্গলজনক। এর মাধ্যমে বার্ধক্যের গতি ধীর করা এবং সম্ভাব্য আয়ু বাড়ানো যেতে পারে। এই সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে সেল প্রেস ব্লু জার্নালে।

পর্যালোচনাটির মুখ্য লেখক, ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের ডাডলি ল্যামিং এক বিবৃতিতে বলেছেন, "অধিকাংশ মানুষই অপেক্ষাকৃত কম পরিশ্রমি, ফলে তারা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি প্রোটিন খেয়ে ফেলছেন, যার নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।"

গবেষণাপত্রটিতে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর ২১ নামের এক ধরনের হরমোনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যখন প্রোটিন গ্রহণ কমানো হয়, তখন এই হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা শরীরের শক্তি বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্যে থাকা ইথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিনের মতো অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু গ্রোথ পাথওয়ে সক্রিয় করে, যা স্থূলতা, প্রদাহ এবং বার্ধক্যজনিত অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের অধীনে নির্ধারিত বর্তমান খাদ্যতালিকাগত নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের সুপারিশ করা হয়, যা পূর্বের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন গড় পুরুষ প্রতিদিন প্রায় ১০০ গ্রাম করে প্রোটিন খেয়ে থাকেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সীমা সমন্বয়ের আগে যা সুপারিশ করা হতো, এই পরিমাণ তার দ্বিগুণের কাছাকাছি। মানবিক ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গেছে, যারা কম প্রোটিন খান তারা ওজন ও শরীরের চর্বি কমাতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের উপবাসকালীন রক্তে শর্করার মাত্রায় উন্নতি হয়েছে, এমনকি যদি তারা মোট ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করেও থাকেন।

তবে ল্যামিং উল্লেখ করেছেন, যারা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয় বা ক্রীড়াবিদ, তারা উচ্চ প্রোটিন গ্রহণের কুফল থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। ব্যায়ামের কারণে অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির দিকে চলে যায়, রোগসৃষ্টির পথের দিকে নয়। তাই তিনি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন, প্রোটিন গ্রহণসী সুপারিশ কেবল বয়সের ভিত্তিতে না হয়ে বরং একজন মানুষ শারীরিকভাবে কতটা সক্রিয়, তার ওপর ভিত্তি করেও নির্ধারিত হওয়া উচিত।

গবেষণাপত্রটির সারসংক্ষেপে আরও বলা হয়েছে, দৈনন্দিন জীবনে কাজের চাপ ও সময়ের অভাবে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করে ফেলেন, বিশেষ করে প্রোটিন বার, সাপ্লিমেন্ট ও বিশেষায়িত খাবারের প্রতি ঝোঁকের কারণে। অথচ এই অভ্যাস বরং উল্টো ফল দিতে পারে যদি পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা হয়। বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রোটিন বাড়ানোর আগে নিজের শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাত্রা যাচাই করা জরুরি।