অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানটি কোনো বিকল্প ছিল না; এটি সময়ের দাবি ছিল। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার এতটাই স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিল যে এই ধরনের একটি আন্দোলন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
বাঁধন জানান, তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে এসে তিনি আবু সাঈদের মৃত্যুর খবরে গভীরভাবে ব্যথিত হন। সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের নির্বিচার গুলি চালনা ও সরকারি মন্ত্রীদের মিথ্যাচার তাঁকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের ঘটনায় প্রথম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি প্রতিক্রিয়া জানান। এরপর পরিচালক আকরাম খানের উদ্যোগে শিল্পীদের একটি দল গোপনে বৈঠক করে ১ আগস্ট ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই বৈঠকের খবর সরকারের কাছে পৌঁছে গেলে তাঁদের হুমকি দেওয়া শুরু হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার ভয় দেখানো হয়। এরপরও তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এবং ৩০ জুলাই আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাস্তায় নামার। ১ আগস্ট সকালে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হলে পুলিশ তাদের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেয়। সেখানে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বলে জানান বাঁধন।
পরবর্তীতে ২ আগস্ট অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সমাবেশে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি জানানো হয়। ৫ আগস্ট 'মার্চ টু গণভবন' কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় তাঁর বাবা তাঁকে না যেতে অনুরোধ করলেও তিনি মানেননি। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার বিজয়ের পর রাস্তায় মানুষ তাঁকে ধন্যবাদ জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে বাঁধন বলেন, এই সরকারকে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী চোখে দেখেছিলেন। তবে সরকারের নীরবতা ও বিভিন্ন ঘটনায় তিনি হতাশ হয়েছেন। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া, বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধাদের ম্যুরাল ধ্বংস এবং নারী কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কুৎসিত সমাবেশের সময় সরকারের নীরবতা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে, যা আন্দোলনের সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা।
তবে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিতে পেরেছেন বলে কৃতিত্ব দেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থান সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এটি ছিল অনিবার্য এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই অভ্যুত্থানের কোনো বিকল্প ছিল না বলেই তিনি মনে করেন।




