যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের কর্মী সংকট মেটাতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নতুন কৌশল নিয়েছে। ভিডিও গেমপ্রেমী তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে দেশটির পরিবহণ বিভাগ এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিয়োগ দিয়েছে। ট্রান্সপোর্টেশন সেক্রেটারি শন ডাফি সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানিয়েছেন, এপ্রিলে গেমারদের নিয়োগের লক্ষ্যে প্রচারণা শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি তার নিয়োগ লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ পূরণ করেছে, এবং আরও ২ হাজার প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোবলক্সে, যেখানে জেন-জি ও জেন-আলফা প্রজন্মের ১৫ কোটি ১৫ লাখেরও বেশি দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে, সেখানে একটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিমুলেটরের মাধ্যমে পিক্সেল আকাশপথ পরিচালনার সুযোগ আছে। সরকারি এই নিয়োগ প্রচারণা মূলত সেই তরুণদেরই আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে আনার উদ্দেশ্যে। গত এপ্রিলে পরিবহণ বিভাগের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপনে ফোর্টনাইটের মতো গেমের ক্লিপ দেখিয়ে এফএএ-র নিয়োগ উইন্ডো ঘোষণা করা হয়, যেখানে তিন বছরের কাজের পর কমপক্ষে ১৫৫ হাজার ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এভিয়েশন খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মী সংকট প্রায় এক দশক ধরে চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিসের (জিএও) ডিসেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সংখ্যা ৬ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে একই সময়ে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ। সম্প্রতি নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে এয়ার কানাডার একটি জেট অবতরণের সময় রানওয়েতে দমকল ট্রাকে ধাক্কা দিয়ে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এই সংকট আবারও আলোচনায় এসেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটি তদন্ত করছেন, এবং এয়ার ট্রাফিক ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল কর্মীদের সমন্বয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক পর্যায়ে বিমানবন্দরের এক নিয়ন্ত্রক নিজেকে দায়ী করে বলেছিলেন, “আমরা আগে একটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করছিলাম। আমি ভুল করেছি।”
সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির হুইটম্যান স্কুল অফ ম্যানেজমেন্টের ফিন্যান্সের অধ্যাপক ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কিভানস অ্যাভরেনলি মনে করেন, ভিডিও গেমপ্রেমীদের মধ্যে থেকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার খোঁজা যৌক্তিক, কারণ এতে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী পাওয়া যেতে পারে। গেমিং রিঅ্যাকশন টাইম কমাতে, মাল্টিটাস্কিং এবং স্থানিক সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জীবন-মৃত্যুর পরিস্থিতির সঙ্গে গেমিংয়ের তুলনা চলে না। “সেখানে কোনো ‘আনডু’ বা ‘রিসেট’ বাটন নেই, এবং টানা কয়েক ঘণ্টা মনোযোগ ধরে রাখতে হয়,” তিনি বলেন। “গেমিং এই চ্যালেঞ্জগুলো পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে পারে না।”
তরুণদের সরকারি চাকরিতে আনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই নিয়োগ প্রচারণা চলছে। গত মার্চে অফিস অফ পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ফেডারেল সরকারে এন্ট্রি-লেভেল কর্মীদের জন্য ফিন্যান্স, মানবসম্পদ, প্রকৌশল, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং সংগ্রহ সংক্রান্ত পদে নিয়োগের জন্য ‘আর্লি কেয়ারার ট্যালেন্ট নেটওয়ার্ক’ চালু করেছে। তবে এফএএ-র এই প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়; ২০২৪ সালে তারা ১ হাজার ৮০০ জন কন্ট্রোলার নিয়োগ করেছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল, এবং ২০২৫ অর্থবছরে ২ হাজার নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা সামান্য ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিল পর্যন্ত পরিবহণ বিভাগ আগামী বছরে আরও ২ হাজার ৩০০ জন নিয়োগের জন্য ৯৫.৪ মিলিয়ন ডলার চেয়েছিল, যদিও প্রতিষ্ঠানটি তার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনও ৩ হাজার ৫০০ জন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার কম রয়েছে।
এত আবেদন সত্ত্বেও, দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে মাত্র ২ শতাংশ আবেদনকারী সার্টিফাইড কন্ট্রোলার হতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় দুই থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে, ফলে নিয়োগ বাড়লেও কর্মী সংকট মেটাতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। অ্যাভরেনলির ভাষ্যমতে, “গেমারদের নিয়োগ একটি যুক্তিসঙ্গত ধারণা, তবে এটি দ্রুত সমাধান নয়, কারণ প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় সময় লাগে।”




