সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী দীর্ঘ ১৭১ দিন পার করেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি। ফলাফল প্রকাশের পর এতদিন কেটে গেলেও পদায়নের কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। বুধবার (২৯ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে যোগদানের তারিখ উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন না এলে আগামী রোববার থেকে সারাদেশে লাগাতার আন্দোলন শুরু করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত আইনি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার পর চার বছরের মধ্যে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিলেই যথেষ্ট। অর্থাৎ যোগদানের আগে প্রশিক্ষণ বা এনএসআই ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক নয়। বিগত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোয় ১৪ থেকে ৫৪ দিনের মধ্যেই যোগদান সম্পন্ন করা হয়েছিল, কিন্তু এবার ১৭১ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। কর্তৃপক্ষের অবস্থান বারবার পরিবর্তন হওয়ায় প্রার্থীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তারা আগে বিদ্যালয়ে পদায়ন ও পরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন নিয়োগ আটকে থাকায় প্রার্থীদের জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অপেক্ষার এই দীর্ঘ সময়ে একজন প্রার্থী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন, অপরজন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অন্তত ১২ জন প্রার্থীর বাবা সন্তানকে শিক্ষক হতে দেখার স্বপ্ন নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, চলমান গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। চলতি জুলাইয়ের মধ্যেই এ রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা পড়বে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিয়ম মেনে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রার্থীরা এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, সরকার বারবার কেবল মুখে আশ্বাস দিলেও লিখিত কোনো সময়সীমা প্রকাশ করছে না।
অন্যদিকে, নতুন শিক্ষক পদায়ন না হওয়ায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় তীব্র শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর ওপর ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক যোগ না দেওয়ায় পাঠদান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পাচ্ছে না, আর নির্বাচিত প্রার্থীরা স্কুলে যেতে পারছেন না। প্রার্থীরা জানান, তারা এতদিন শান্তিপূর্ণ উপায়ে—জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন ও শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার গিয়ে—দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু সব সময় মৌখিক আশ্বাসই মিলেছে। আগামীকালের মধ্যে লিখিত প্রজ্ঞাপন না এলে রোববার থেকে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নামবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।




