বিগ হিট মিউজিকের বক্তব্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত অঙ্গনে বিটিএস এখন আর কেবল ভক্তমহলের মধ্যেই আবদ্ধ নেই। বরং দলটি মূলধারার শ্রোতাদের একটি বিশাল গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে, যা তাদের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর বাণিজ্যিক পারফরম্যান্সে। প্রকাশের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালবামটির মোট বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার কপি। এর মধ্যে ভিনাইল ফরম্যাটে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কপি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৪০ শতাংশ। ১৯৯১ সাল থেকে অ্যালবাম বিক্রির তথ্য নথিবদ্ধ করার পর থেকে কোনো সংগীত দলের ভিনাইল বিক্রির ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানিয়েছে বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লুমিনেট। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ভিনাইলের এই বিক্রির ধরন কে-পপের প্রচলিত সিডিনির্ভর বাণিজ্যিক মডেল থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা; এটি মূলধারার জনপ্রিয় পপ শিল্পীদের অ্যালবাম কেনার প্রবণতার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ‘আরিরাং’-এর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চোখে পড়ে। প্রকাশের প্রথম ১৬ সপ্তাহে অ্যালবামটির গানগুলো বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৭০ কোটি বার স্ট্রিম হয়েছে। একই সময়কালে বিটিএসের পূর্ববর্তী গানগুলোর শ্রোতাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে; সব মিলিয়ে ওই সময়ে দলটির মোট গান ৮৭০ কোটি বার স্ট্রিম হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের বিরতির সময় পরিবেশনের পর ‘আরিরাং’ পুনরায় বিলবোর্ড ২০০ তালিকার শীর্ষ ১০-এ স্থান করে নেয়, যা তাদের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার আরেকটি দিক তুলে ধরে।

জনপ্রিয়তার দিক থেকেও দলটির অবস্থান শক্তিশালী। সংগীতবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লুমিনেটের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ শতাংশ সংগীতশ্রোতা বিটিএসকে চেনেন। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব নিকটে রয়েছে বর্তমান পরিসংখ্যান। সব শিল্পীর গড় পরিচিতির হার ২৪ শতাংশ হলেও বিটিএসের ক্ষেত্রে তা ১৮ শতাংশ বেশি। জরিপে অন্তর্ভুক্ত ২২টি কে-পপ দলের গড় পরিচিতি মাত্র ১১ শতাংশ হওয়ায়, দলটির অবস্থান স্পষ্টতই ব্যতিক্রমী।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণেও বিটিএসের পরিচিতির বিস্তার লক্ষণীয়। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ এবং ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের অর্ধেকের বেশি দলটি সম্পর্কে জানেন। শুধু পরিচিতিই নয়, ইতিবাচক মনোভাবের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। দলটিকে যারা চেনেন, তাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ বিটিএসকে পছন্দ করেন, যা ২০২১ সালে লুমিনেট জরিপ শুরুর পর সর্বোচ্চ। সে সময় এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিটি বয়সগোষ্ঠীর মধ্যেই বিটিএসের জনপ্রিয়তার হার ৪০ শতাংশের বেশি; ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ, ৬০ শতাংশ।

সামাজিক মাধ্যমে ‘উই স্ট্যান্ড উইথ বিটিএস’ হ্যাশট্যাগে ব্যাপক প্রচারও দলটির প্রতি জনমতের ইতিবাচক প্রতিফলনের একটি দিক। সব মিলিয়ে, বাণিজ্যিক সাফল্য, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শ্রোতার বৃদ্ধি এবং মূলধারার শ্রোতাদের মধ্যে বিস্তৃত পরিচিতি—এই তিনটি দিক একত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিটিএসের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: কোরিয়া টাইমস।