ছোটবেলায় একটি ফোনালাপের ভিডিওতে "মামণি আমার কেন কথা শোনে না"—এই সংলাপের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছিল শিশুশিল্পী পিদিম। পরবর্তীতে জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'এফএনএফ'-এ অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। সেই পিদিমের সঙ্গে শনিবার কথা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিচয় প্রায় ভুলেই গেছেন বলে জানিয়েছেন।

পিদিম জানান, তাঁর বাবা আলী ফিদা আকরাম তোজো একজন পরিচালক। বাবার সঙ্গে প্রায়ই শুটিং সেটে যাওয়া হতো তাঁর। এভাবেই দেড় বছর বয়সে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। পিদিম বলেন, ফারুকী একসময় তাঁর বাবার প্রধান সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। শৈশবে বাবার শুটিং দেখেই তাঁর অভিনয়ে আগ্রহ জন্মে। ফারুকী তাঁর পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন এবং অভিনয়ের নানা কৌশল শিখিয়েছেন।

রেদওয়ান রনি, শিহাব শাহীন, আশফাক নিপুন, ইফতেখার আহমেদ ফাহমিসহ অনেক পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করেছেন পিদিম। তবে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন 'এফএনএফ' ধারাবাহিকের রোহান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। ২০১০ সালে প্রচার শুরুর পর তাঁর নামই রোহান হয়ে যায়। জাফলংয়ে শুটিংয়ের সময়কার স্মৃতি মনে করে পিদিম বলেন, মোশাররফ করিম তাঁকে সারাক্ষণ হাসিয়ে রাখতেন। শুটিংয়ের সময় তিনি এতটাই চঞ্চল ছিলেন যে সবাই মিলে তাঁকে খুঁজে বেড়াতেন।

শিশুশিল্পী হিসেবে সর্বশেষ ২০১৬ সালে অভিনয় করেছেন পিদিম। এরপর প্রায় এক দশক ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। তাঁর পুরোনো কাজের ভিডিও এখনো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। কিন্তু বড় হওয়ার কারণে তাকে আর কেউ চেনে না বলে জানান তিনি। পিদিম বলেন, দর্শকরা তাঁর ভিডিও দেখছেন এবং মন্তব্য করছেন—এটা তাঁকে অবাক ও আনন্দিত করে।

অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পিদিম বলেন, পড়াশোনার জন্য তিনি অভিনয় ছেড়ে দেন। একসঙ্গে দুটি ধরে রাখা কঠিন মনে হওয়ায় শুধু পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। ও লেভেল ও এ লেভেল শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে অভিনয়ের আর সময় হয়ে ওঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় অভিনয় করা সম্ভব হয়নি।

তবে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এখনো আছে। সিনেমা দেখার সময় নিজেকে বিভিন্ন চরিত্রে কল্পনা করেন তিনি। অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে বলেও জানান পিদিম। তাঁর পুরোনো কাজগুলো দেখলে এখন ভুল খুঁজে পান, যা তিনি আরও ভালোভাবে করতে পারতেন বলে মনে করেন। বর্তমানে আইইউবিতে অষ্টম সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন তিনি। পড়াশোনা শেষে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। অবসরে গান ও নাচ পছন্দ করেন, বাবার সঙ্গে বাসায় পিয়ানো বাজান।