মার্ভেল স্টুডিওজের বহুপ্রতীক্ষিত নতুন এক্স-মেন প্রকল্প নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সম্প্রতি ডিজনির বার্ষিক ডি২৩ প্রদর্শনীতে সেই অপেক্ষার কিছুটা অবসান হলো। সেখানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, পরিচালক জেক শ্রেইয়ারের প্রথম এক্স-মেন ছবিটি ২০২৮ সালের ৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। যদিও পূর্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীর তালিকা এখনো উন্মোচিত হয়নি, তবু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

এই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়া নামটি হলো স্যাডি সিঙ্ক। স্পাইডার-ম্যান ছবির সহ-অভিনেত্রী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে এবং সেই ছবির বক্স অফিস আয় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি অন্যান্য কয়েকজন শিল্পীর নামও পূর্বের প্রতিবেদন ও গুঞ্জনের স্তর থেকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষণা হলো ইন্ডে নাভারেতের রগ চরিত্রে অভিনয়। পূর্বে কেলি স্প্যানি বা ওডেসা ও’জিওনের নাম এই ভূমিকার জন্য শোনা গেলেও, নাভারেতে সেই প্রত্যাশা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি পরিচালক শ্রেইয়ারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকার করলেও প্রাথমিকভাবে মিস্টিক চরিত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় অজানা অবস্থা থেকে হরর আইকন হয়ে এখন তিনি মার্ভেলের জনপ্রিয় সুপারহিরোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন—এটি তার ক্যারিয়ারের বিস্ময়কর উত্থান। অন্যদিকে, চার্লস মেল্টনের নাম বিস্ট চরিত্রে গুঞ্জন হিসেবে এখনও শোনা যাচ্ছে, যা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ব্রডওয়ের অভিনেত্রী মায়া বয়েড। তিনি এখনও কোনো পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। এই ধরনের বিশাল প্রজেক্টে তার অন্তর্ভুক্তি দলটির জন্য একটি বড় বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া কনর নামের আরেকজন উদীয়মান তারকার কথাও উল্লিখিত হয়েছে, যিনি সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। নাভারেতে, সিঙ্ক ও কনর—এই তরুণ প্রতিভাদের একত্রে নিয়ে আসা মার্ভেলের নতুন যুগের ইঙ্গিত বহন করে।

তবে পুরো দলটি এখনো স্পষ্ট নয়। সিক্রেট ওয়ার্স বা ডুমসডে-এর সঙ্গে এই নতুন এক্স-মেনদের কীভাবে যুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি। ডিজনি এই মঞ্চে পুরো কাস্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি বলেও মনে হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও একক স্পিন-অফ এবং ধারাবাহিক প্রকল্প আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এই নতুন যুগকে আরও বিস্তৃত করবে।

মার্ভেল ব্র্যান্ডের ভবিষ্যতের জন্য এক্স-মেন দলের গুরুত্ব অপরিসীম। দুই দশক ধরে অ্যাভেঞ্জার্সের আধিপত্যের পর এবার সম্ভবত মিউট্যান্টদের যুগ ফিরে আসতে পারে। যদিও তারা একমাত্র দল বা চরিত্র হবে না, তবু মার্ভেলের স্তম্ভ হিসেবে তাদের অবস্থান ঐতিহাসিক। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন অভিনয়শিল্পীরা কীভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেন এবং দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হন।