মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নানা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও হাস্যরস সৃষ্টি হয়। প্রথমেই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন কুষ্টিয়ার নদীপথে নৌ পুলিশের থানা স্থাপনের দাবি তোলেন। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানতে চান—তিনি কি নৌ পুলিশের থানা চাইছেন? সদস্যা ‘হ্যাঁ’ বললে স্পিকার প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘থানা–পুলিশ কি আপনার আওতাধীন? কিছু উত্তর দিন।’ উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘না, মুরগি নিয়ে আছি, পুলিশ আমার সাথে নাই।’ তাঁর এ মন্তব্যে সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির বন্যা বয়ে যায়। তবে তিনি জানান, ওই এলাকায় ‘রিজার্ভের মাছ’ ধরার ঘটনা ঘটলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুলিশ চেয়ে অনুরোধ করতে পারেন। কিন্তু সেটির বাইরে তাঁর কিছু করার নেই বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বিলকিস ইসলাম বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনকে কিছুটা উদাসীন মনে হয়। তার দৃষ্টি আকর্ষণে স্পিকার দুবার বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী’। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি উচ্চারণ করেন ‘সো বিজি’। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক হলে স্পিকার তাকে অনুরোধ করেন, সদস্যের বক্তব্য শোনার জন্য। ওই আলোচনা ছিল কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের অংশ।

এছাড়া সংসদে মুঠোফোন ব্যবহার নিয়েও স্পিকার কঠোর অবস্থান নেন। বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি একজন সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখেন। স্পিকার মন্তব্য করেন, ‘আপনি তো খুল্লাম খুল্লা ইউজ করছেন।’ তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি ফোন ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি রীতিবিরুদ্ধ এবং সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন তিনি।