সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের তিনটি বিশেষ ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা না করার অনুরোধ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি করেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনি আদালতের কাছে এ নিবেদন রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, পঞ্চদশ সংশোধনী অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে পাস হলেও সংশোধনীটি পুরোপুরি বাতিল করলে সংবিধানে কিছু শূন্যতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংক্রান্ত ধারাটি এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

শরীফ ভূঁইয়া ব্যাখ্যা দেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল মূলত সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সংবিধানের অংশ হয়। পরে আপিল বিভাগের এক রায়ে পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষিত হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই শূন্যতা দূর করতেই পঞ্চদশ সংশোধনীতে আবারও সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হয়ে গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর ৩১ ধারার মাধ্যমে বিচারকের পদের মেয়াদ ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৪১ ধারায় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা একক রাজনৈতিক দলের ধারা বিলুপ্ত রাখা হয়েছে—যা সামরিক ফরমান ও পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা পেয়েছিল। এ ছাড়া ৩৬ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা সংক্রান্ত ১০২ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয়। এই তিনটি ধারাকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান। বাকি সব ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও সংবিধানে কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না বলে তিনি মত দেন।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি শুনানির পর ব্রিফিংয়ে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীকে শুধু একটি সংশোধনী নয় বরং সংবিধানের পুনর্লিখন বলা উচিত। এই সংশোধনীতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি, প্রস্তাবনা ও নীতিকথা সংক্রান্ত যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো সংসদের এখতিয়ারে ফেলে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর মতে, নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলোতে আদালতের হস্তক্ষেপ না করাই উচিত, কারণ সংসদেরই আইন প্রণয়নের দায়িত্ব। তবে তিনি স্বীকার করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের মতো বিষয় সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে সেগুলোতে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

শুনানিতে আরও অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক (হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পক্ষে), আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির (অপর আপিলকারীর পক্ষে), জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ (তৃতীয় পক্ষ হিসেবে)। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ট অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ পরবর্তী শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেছে।