রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃবৃন্দ ও জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
এনসিপির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের অপমান ও গণহত্যাকারীদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা এই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে তারা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান আখতার হোসেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান না হলে বর্তমান সরকার দেশে ফিরতে পারত না। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসে শহীদদের ভুলে গেছেন এবং গণভোটের রায়কে অস্বীকার করতে চাইছেন। তিনি আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, বিচার না হলে আরেকটি অভ্যুত্থান অনিবার্য হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনপ্রত্যাশা পূরণ না করে সংসদ চালানো যাবে না। জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতায় বসে জনমত উপেক্ষা করলে জনগণ তা হতে দেবে না বলে সতর্ক করেন তিনি। প্রয়োজনে আরেকটি জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন। গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ রাজনৈতিক সংকটের দিকে যেতে পারে। এ ছাড়া শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান, শহীদ আবদুর রহমান জিসানের বাবা বাবুল সরদার, শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা বাছির আলম, শহীদ মোহাম্মদ আদিলের বাবা আবুল কালাম, শহীদ সাব্বির হোসেনের মা মাকসুদা বেগম, শহীদ সাব্বির ইসলামের মা সাবিনা খাতুন এবং আহত জুলাই যোদ্ধা রুবেল চৌধুরী মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন।




