ম্যাকাইয়ে ২২ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ লড়াই। ডারউইনে প্রথম টেস্টে জয় পাওয়ার পর টাইগাররা এখন এমন এক ঐতিহাসিক সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যা গত ১৩৯ বছরে কোনো দলই অর্জন করতে পারেনি। যদি ম্যাকাইয়েও বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়, তাহলে অস্ট্রেলিয়া তাদের ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাইয়ের শিকার হবে—যা ১৮৮৭ সালের পর থেকে আর কখনো ঘটেনি।

এই সম্ভাবনার পেছনে রয়েছে দুই বছর আগের একটি অভাবনীয় সাফল্য। ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই করে ফিরে আসে। পাকিস্তানের ঘরের মাঠে সেটি ছিল তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরাজয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে এই পরাজয়ের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে টেস্ট ক্রমতালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে আছে। শুধু র‌্যাঙ্কিংয়ের কারণেই নয়, ঘরের মাঠে তাদের রেকর্ডও অত্যন্ত শক্তিশালী।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে জয় পেয়ে বাংলাদেশ ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এটি ছিল প্রথম টেস্ট জয়। পাকিস্তানে জয়ের চেয়েও এই অর্জনের মাহাত্ম্য বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। সেই জয়ের পর দলটি এখন ম্যাকাইয়ে অবস্থান করছে এবং সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে।

১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া সিডনিতে অনুষ্ঠিত দুটি টেস্টেই পরাজিত হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে এবং দ্বিতীয়টিতে ৭১ রানে জয় পেয়েছিল ইংরেজরা। সেই ধবলধোলাইয়ের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া তাদের ঘরের মাঠে ১১০টি বহুম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে। গত দশ বছরে অনুষ্ঠিত ১৩টি সিরিজের মধ্যে মাত্র দুটিতে পরাজিত হয়েছে দলটি—উভয়বারই ভারতের কাছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বার এই পরাজয় ঘটে। এছাড়া ২০২৪ সালে ব্রিসবেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে শামার জোসেফের অসাধারণ বোলিংয়ে জয় পেয়ে ক্যারিবীয়রা সিরিজটি ড্র করে—যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে রয়ে গেছে।

ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশ জয় পেলে ১৩৯ বছরের পুরোনো সেই ইতিহাস নতুন করে ফিরে আসবে। তবে দলটি যদি দ্বিতীয় টেস্টে জয় না-ও পায়, তবু গৌরবের কোনো ঘাটতি থাকবে না। কারণ সিরিজটি আর হারছে না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া থেকে সিরিজ না হেরে দেশে ফেরার ঘটনাও কম অর্জনের নয়।

ডারউইনে জয়ের পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তিনি সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তার সেই অনুভূতি দলের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।