বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম ও প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে এক পরিসংখ্যানে। ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ৩২৫টির বেশি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর্থিক প্রণোদনা ও পদোন্নতির মোহে গবেষকদের একটি অংশ এই জালিয়াতির পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যাহৃত গবেষণাপত্রগুলোর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া বিশেষজ্ঞ নিযুক্তি, উপস্থাপিত তথ্যে অসামঞ্জস্য এবং সরাসরি অপরের লেখা চুরি। এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তথ্যমতে, সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যাদের ৪৪টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৪২টি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২টি গবেষণাকর্ম এ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
গবেষক মহল বলছেন, গবেষণার সংখ্যাভিত্তিক মূল্যায়ন, দ্রুত পদোন্নতি পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং বাড়তি আর্থিক সুবিধা লাভের চেষ্টাই এই জালিয়াতির পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নজরদারি ব্যবস্থা না থাকায় এবং সুস্পষ্ট জবাবদিহির নীতিমালা অনুপস্থিত থাকায় এ ধরণের অনিয়ম বারবার ঘটছে। ফলে দেশের প্রকৃত ও মানসম্মত গবেষণার জন্য এটি একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।




