বহুপ্রতীক্ষিত হেভিওয়েট বক্সিং লড়াই টাইসন ফিউরি ও অ্যান্টনি জোশুয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, এর নির্দিষ্ট স্থান ও সময় নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৬ সালের ২০ নভেম্বর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ বা স্থান নিশ্চিত করা হয়নি, ফলে বক্সিং বিশ্বের দর্শকরা এখনো একটি স্পষ্ট ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সূত্রমতে, উভয় বক্সারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে লড়াইটি যুক্তরাজ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। এই চুক্তিগত শর্তকে হাতিয়ার করে জোশুয়ার প্রমোটার এডি হর্ন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান ম্যাচরুম স্থান পরিবর্তনের যেকোনো প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছেন। হর্নের মতে, ভেন্যু সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়া তিনি অন্য কোনো স্থানে লড়াই আয়োজনের অনুমতি দেবেন না। তিনি এই অবস্থানে অটল থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন, বিশেষ করে ডানা হোয়াইটের সেই দাবিকে কেন্দ্র করে যেখানে বলা হয়েছিল ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ও বিশ্বখ্যাত স্টেডিয়াম ওয়েম্বলি, যার দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৯০ হাজার, দীর্ঘদিন ধরেই এই বিশাল লড়াইয়ের সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে আলোচিত। কিন্তু সেখানে রাত ১১টার পর অনুষ্ঠানের সময়সীমার বিধিনিষেধের কারণে আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলেই অনুষ্ঠানটি ইংল্যান্ডের বাইরে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যাতে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের উপযোগী সময়ে সম্প্রচার করা যায়। এই পরিস্থিতিতেই নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন একটি প্রধান বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে নেটফ্লিক্স ও ডানা হোয়াইটের মতো পক্ষ সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।
হর্ন শুধু বিরোধিতাই করেননি, বরং জোশুয়ার স্বার্থ রক্ষায় স্থান পরিবর্তনের আগে যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও বিশেষ ছাড়ের দাবিও তুলেছেন। এই দাবির মধ্যে জোশুয়ার কর অবস্থান, ভ্রমণসূচি এবং গণমাধ্যম-সম্পর্কিত দায়িত্ব সংক্রান্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও এখনও কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি, তবু ম্যাচরুমের এই অবস্থানকে অনেকেই কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ নয়, বরং বাস্তবিক চুক্তিগত লড়াই হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ফিউরি নিউ ইয়র্কে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে খবর রয়েছে। ফলে একদিকে ফিউরির আগ্রহ ও অন্যদিকে জোশুয়ার শিবিরের কঠোর অবস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ এখনো অর্থনৈতিক শর্ত ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার জালে আটকে আছে। বক্সিং বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে কখন এই জটিল আলোচনা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোথায় ও কখন এই বহুল আকাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথ অনুষ্ঠিত হবে।




