ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠেয় টেস্ট ম্যাচের দল গঠন ও বোলিং আক্রমণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাল ম্যাচ শুরুর আগে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বর্তমানে সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যদিও কোচ ফিল সিমন্স জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দলগত সংমিশ্রণ ভাঙার পক্ষপাতী নন। গতকাল ডারউইনে জয়ের পর দল পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি, তবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের আজকের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট ডারউইনের তুলনায় আরও বেশি পেসবান্ধব হওয়ায় বোলিং আক্রমণে পরিবর্তনের প্রশ্নটি জোরালো হয়েছে। কোচ সিমন্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তিনি দল বদলাবেন না। তবু আজকের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেছেন, তাঁর হাতে একাদশ সাজানোর সব ধরনের সুযোগ রয়েছে। চার পেসার নিয়ে মাঠে নামা তো বটেই, প্রয়োজনে খালেদ আহমেদকে অন্তর্ভুক্ত করে পাঁচ পেসার খেলানোর বিকল্পও তাঁর কাছে আছে। এর অর্থ হলো—সব পেসারই খেলার উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং যে কেউ প্রয়োজনে একাদশে স্থান পেতে পারেন।
অনুশীলনের দৃশ্য এই সম্ভাবনার পক্ষে আরও সাক্ষ্য দিচ্ছে। বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামকে আজ বোলিংয়ের পাশাপাশি অনুশীলনের জালে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা গেছে। ডারউইন টেস্টের অভিজ্ঞতা বলে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের পাশাপাশি শরীফুলেরও দীর্ঘ ব্যাটিং অনুশীলন তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। অপরদিকে, বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আজ জালে ব্যাটিং করেননি, যা দল গঠনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধিনায়ক অবশ্য স্পিনারদের ওপরও আস্থা হারাননি। বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ সব ধরনের পিচের অবস্থায় কার্যকর বোলিং করতে সক্ষম বলে তিনি মনে করেন। ম্যাকাইয়ের উইকেটেও তাঁদের বোলিং কার্যকর হতে পারে বলে তাঁর বিশ্বাস। স্পিনারদের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট এবং তাঁদের উপর ভরসা রাখতে চান। বোলিং আক্রমণের চূড়ান্ত রূপ কাল ম্যাচের আগে উইকেট পরখ করেই নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তানজিদ হাসান ঘাড়ের আড়ষ্টতায় ভুগছেন। কাল তিনি জালে ব্যাটিং করেননি। আজ চিকিৎসা পরীক্ষা করিয়ে মাঠে এসে জালে ব্যাটিং করেছেন এবং সেটি দৃশ্যমান কোনো সমস্যা ছাড়াই সম্পন্ন করেছেন। যদিও পরীক্ষার প্রতিবেদন এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা যায়নি, তবু অধিনায়ক কিছুটা আশাবাদী। তিনি জানিয়েছেন, আজকের দিনটি ইতিবাচক। তবু কাল সকাল পর্যন্ত আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। তাঁর আশা, তানজিদ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। হাতে সব ধরনের বিকল্প থাকায় বড় কোনো জটিলতা হবে না বলে মনে করেন তিনি। তানজিদ খেলতে না পারলে সৌম্য সরকারের দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুশফিকুর রহিমের অবস্থাও স্বস্তির। কাল জালে ব্যাটিংয়ের সময় তাঁর আঙুলে চোট লেগেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরে আবার ব্যাটিং করেছেন, আজও তুলনামূলক কম সময় হলেও জালে ব্যাটিং করেছেন। অধিনায়কের ভাষায়, মুশফিক এখন পর্যন্ত ঠিক আছেন। তানজিদও আজ ব্যাটিং করেছে। সব মিলিয়ে কাল সকালে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তানজিদ ও মুশফিক—উভয়েই খেলতে সক্ষম হলে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। পেস বোলার একজন বাড়লে অনুশীলনে কোচের বিশেষ দৃষ্টি পাওয়া শরীফুলই সুযোগ পেতে পারেন; সেক্ষেত্রে তাইজুলকে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে পরিবর্তন হোক বা না হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাল ম্যাচ শুরুর আগে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ দল ম্যাকাইয়ে পাঁচ দিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায়। সব মিলিয়ে প্রস্তুতিতে স্বস্তি রয়েছে অধিনায়কের কণ্ঠে, যদিও দল গঠনের জটিল প্রশ্ন শুনে কোচ ফিল সিমন্স আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন—যা এই টেস্টের কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।




