ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রাখে। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের আবেদনে সরোয়ারকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতেও বাধা দেওয়ার আরজি রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন সরোয়ার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। হাইকোর্ট রুল জারি করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় এবং ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ নির্দেশ দেয়, যদি সরোয়ার নির্বাচনে সফল হন, তবে তাঁর ফলাফল প্রকাশ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এরপর গত ৯ জুলাই হাইকোর্ড রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেয়, যাতে সরোয়ারের প্রার্থিতা বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ বলা হয়। রায়ের পরই ইসি সচিবালয় সরোয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ১৩ জুলাই চেম্বার আদালত আবেদনটি ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায়। আজকের কার্যতালিকায় ২০ নম্বর ক্রমিকে ওঠা আবেদনটি শুনানির সময় পেয়েছিল।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। সরোয়ারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। আহসানুল করিম জানান, আপিল বিভাগের চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আবেদন শুনবে, তাই আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) দিন ধার্য করা হয়েছে।
পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে ইসিতে আপিল করেন। ১৮ জানুয়ারি ইসি সরোয়ারের মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এরপর হাইকোর্টে রিট করে সরোয়ার, এবং ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। জামায়াতের প্রার্থী আপিল বিভাগে আবেদন করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আদেশ দেয়। গত ৩১ মার্চ জামায়াতের প্রার্থী নিয়মিত আপিল করে। ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুত হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়, যা ৯ জুলাই হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এই রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীর আবেদনটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।




