গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. সাইফুল ইসলামের (৩২) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি আদালতকে জানান, আসামির ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণ ও পূর্বে গ্রেপ্তার অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দি যাচাই করে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মামলায় আরও কারা জড়িত তা শনাক্ত এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসাইন রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করে বলেন, সাইফুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী এবং ওই দিন ব্যবসার কাজেই তিনি কারওয়ান বাজার গিয়েছিলেন। হাদি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওই দিন একটি 'মব' সৃষ্টি হয় এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লেখালেখি করেছেন। তিনি দাবি করেন, সাইফুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের সঙ্গেও তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতি স্বীকার করেছেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গেও তাঁর চেহারার মিল পাওয়া গেছে। আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্যই রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইফুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্ট ও আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের তথ্য পর্যালোচনায় ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। গত ৬ জুলাই রাতে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত আজকের তারিখ ধার্য করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন রাত ১১টা ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সংঘবদ্ধভাবে প্রথম আলো অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালান। এরপর ডেইলি স্টারে হামলার জন্য উসকানিমূলক পোস্ট দেন এবং রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে সেখানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন। তাঁর কাছ থেকে একটি আইফোন ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আলামত উদ্ধারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে পুলিশ জানায়।
৬ জুলাই ডিবির একটি দল কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এসকেএম লেদার লিমিটেডের মালিক। আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সমন্বিত হামলায় প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়, এরপর হামলাকারীরা ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।




