বাংলাদেশে নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবার কাজে লাগানো হবে বিন্না ঘাস। পাহাড়ের ঢালে ক্ষয়রোধে বিভিন্ন দেশে এই ঘাসের সফল ব্যবহার রয়েছে। এর শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখতে সক্ষম। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের নদীর পাড় ও বাঁধের মাটি রক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রোববার রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবনে 'বিন্না ঘাস পলিসি ফর বাংলাদেশ' শীর্ষক এক সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও মৃত্তিকা ক্ষয় রোধে বিন্না ঘাস একটি কার্যকর, পরিবেশবান্ধব এবং স্বল্প ব্যয়ের প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নদীর তীর, বাঁধের ঢাল, হাওরাঞ্চল এবং ক্ষয়প্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এই ঘাস রোপণের মাধ্যমে মাটির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে বৃষ্টির পানি, ঢেউ ও স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে নদী ও খালের তীর, বাঁধ, পাহাড়ি ঢল এবং হাওর অঞ্চলে এই ঘাসের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে পারে বলেও উল্লেখ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নদীর পাড় ও বাঁধের মাটি রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অবশ্যই বৃদ্ধি করতে হবে।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি ও ভূমিক্ষণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু কংক্রিটের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে প্রকৃতিনির্ভর এবং পরিবেশবান্ধব সমাধানকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বিন্না ঘাস অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও মনে করেন তিনি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের নদী, খাল, বাঁধ ও জলাধার সংরক্ষণে টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে সভায় বিন্না ঘাসের উপকারিতা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।