চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন এখনও স্বজনপ্রীতিতে লিপ্ত এবং সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্দেশনা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ছে না বলে কড়া অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জোবাইরুল আলম। গতকাল বুধবার বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী টানেল মোড়ে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এ অভিযোগ তোলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের দাবিতে এ সমাবেশ হয়।
সমাবেশ থেকে জোবাইরুল আলম প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া ভাষায় বলেন, “আপনারা কি ৩৬ জুলাই দেখেন নাই? তখন কিভাবে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা থানাগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল? পাবলিকের টাকায় চলা এই পুলিশকে আমরা পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম, সেটা কি আপনারা দেখেন নাই?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউই তখন পোশাক পরে ছিল না, বরং সবাই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। বিরোধী দলের কেউ তখন উপজেলা বা থানা প্রশাসনে প্রবেশ করতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানেও দেখা যায় ইউএনও বা কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে বলে। এমপির নির্দেশনা না থাকলে প্রশাসনের কোনো ফাইল নড়ে না। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার সুবিধাগুলো বিএনপির নেতাদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যাওয়া, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অনিয়মিত নিয়োগ নেওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও তরুণদের কাছ থেকে এমপির সুপারিশ চাওয়ার অভিযোগও তিনি আনেন।
জোবাইরুল আলম হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যদি আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠার চেষ্টা করে, তাহলে তাদেরকে সে সুযোগ দেবেন না তাঁরা। তিনি বলেন, “যেমন আমরা আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরতে দেব না, তেমনি কাউকে আওয়ামী লীগ হয়ে উঠতেও দেব না, ইনশাআল্লাহ।” আরও বলেন, কেউ যদি মাফিয়া হতে চায়, তাহলে এখন তারাই বড় মাফিয়া।
উক্ত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলমীর সভাপতি আবদুল গনি এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবুল হাসান। পরবর্তীতে ওই বক্তৃতার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা জোবাইরুল আলম নিজেও তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভিডিওতে পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি এবং তারা চান না যে জনগণের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাক। জুলাই আন্দোলনের মতো প্রশাসনের সাথে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হোক তা তারা প্রত্যাশা করেন না। তিনি একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।



