সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই ও শাল্লা) সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী একটি প্রকাশ্য সমাবেশে মন্তব্য করেছেন যে, আওয়ামী লীগকে বিএনপির শত্রু হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং তারা মিত্র। তার ভাষ্যমতে, উভয় দলই একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে মিশে যাবে। দিরাই পৌরসভার থানা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার বিকেলে 'গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অপ্রতিরোধ্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ' শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে নাছির চৌধুরী তার নিজের দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েও কথা বলেন। তার ছোট ভাই মাসুক চৌধুরী, যিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, আগামী শনিবার পৃথক একটি সমাবেশ ডেকেছেন। এ প্রসঙ্গে নাছির চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, আজকের এই সমাবেশই হচ্ছে বিএনপির মূল সমাবেশ। এর বাইরে আর কোনো সমাবেশ নেই। যারা ৮ আগস্ট আলাদা সমাবেশ করতে চাচ্ছে, তারা দলে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। তাদের সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৭৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য তার ছোট ভাইয়ের প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার কোনো ভাই নেই, আমি একা। এমনকি আমার বাসাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।' তার অভিযোগ, যারা দলের নাম ব্যবহার করে চুরি-দুর্নীতি করতে পারে না, তারাই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, 'আমি নাকি লাখ লাখ টাকা লুটপাট করে খাচ্ছি। যারা এসব কথা বলে, তাদেরকে প্রশ্ন করুন—আসলে কত টাকা বাজেট এসেছে? প্রয়োজন হলে ইউএনওর কাছে গিয়ে খোঁজ নিন।' দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে নাছির চৌধুরী বলেন, তিনি যতদিন জীবিত আছেন, কাউকে কোনো প্রকার দুর্নীতি করার সুযোগ দেবেন না।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার, সদস্য ফারুক সরদার, সাব্বির মিয়া, মুজিবুর রহমান, নুরুল হক তালুকদার, আবু সাঈদ চৌধুরী, সজীব রশিদ চৌধুরী এবং নাছির চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন চৌধুরী।




