মাত্র ২৫ বছর বয়সে ইউরোপের সবচেয়ে কম বয়সী স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ারের তালিকায় নিজের নাম তুলে নিলেন জেমস ডেকম্ব। উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়া শেষ না করেই ব্যবসায়িক সাফল্যের পথ বেছে নেওয়া এই তরুণ উদ্যোক্তার দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠান ওলিক্সের সাম্প্রতিক এক বিনিয়োগ রাউন্ডের পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওলিক্স মাত্র দুই বছর আগে যাত্রা শুরু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মূল্য তিন গুণ বেড়েছে। সম্প্রতি ৩১২ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পায় প্রতিষ্ঠানটি, যার ফলে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারে। ডেকম্বের মালিকানায় থাকা আনুমানিক ৩০ শতাংশ শেয়ারের হিসাব অনুযায়ী তার সম্পদ ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়।
অন্যদিকে, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ও তার নেতৃত্বে থাকা কোমাইন্ড প্রতিষ্ঠানটির ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। গত বছর আগস্টে এই প্রতিষ্ঠানটি ১০২.৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। এই দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের হিসাব মিলিয়েই তার মোট সম্পদের পরিমাণ চোখ ধাঁধানো পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্বে ৩০ বছরের কম বয়সী মাত্র ১১ জন স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ার রয়েছেন, যাদের মধ্যে ডেকম্ব অন্যতম। এই তালিকার মধ্যে মাত্র চারজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাস করেন, তাদের একজন এই ব্রিটিশ তরুণ উদ্যোক্তা।
শৈশব থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক ছিল ডেকম্বের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট তৈরি করা শুরু করেন। ইংল্যান্ডের নর্থ ইয়র্কশায়ারের অ্যাশভিল কলেজে পড়াকালীন তিনি পদার্থবিদ্যা, গণিত, অর্থনীতি ও ব্যবসা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যে তার জন্য নয়, তা বুঝতে পেরে ১৭ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে নিজের প্রতিষ্ঠান কোমাইন্ডকে বড় করার দিকে মনোযোগ দেন। এর চার বছর পর তার ব্যবসা ত্বরান্বিত করার একটি বড় সুযোগ আসে।
পালান্টির সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার থিলের প্রতিষ্ঠিত থিল ফেলোশিপে অংশ নেন তিনি। এই প্রতিযোগিতামূলক দুই বছরের প্রোগ্রামে তরুণ উদ্যোক্তাদের কলেজ বাদ দিয়ে নিজেদের উদ্যোক্তা স্বপ্ন পূরণের জন্য ২৫০ হাজার ডলার দেওয়া হয়। এই ফেলোশিপের মাধ্যমেই স্কেলএআই-এর আলেকজান্ডার ওয়াং এবং লুসি গুওর মতো সফল উদ্যোক্তারা তৈরি হয়েছেন। ২০২৪ সালে সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেকম্ব বলেন, “এত অল্প বয়সে ব্যবসা শুরুর একটা সুবিধা হলো নিষ্পাপতা। ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক কিছু চেষ্টা করে যাওয়া যায়। সৌভাগ্যক্রমে কিছু কিছু কাজেও সফল হওয়া যায়।”
প্রযুক্তি বিপ্লব এখন তরুণদের মধ্যে বিলিয়নিয়ার তৈরির একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট যুগের শুরুর দিকে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২০০৮ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে প্রথম স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। এরপর তার সহপ্রতিষ্ঠাতা ডাস্টিন মস্কোভিৎজ মিড-টোয়েন্টিতে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। ২০১৫ সালে স্ন্যাপচ্যাটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইভান স্পিগেল ২৪ বছর বয়সে এই তালিকায় শীর্ষে ওঠেন।
এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত তরুণদের সম্পদশালী করে তুলছে। শুধু ২০২৫ সালেই এই খাতে ৫০ জনের বেশি নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা এই খাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছেন। ২০২২ সালে স্কেলএআই-এর তৎকালীন ২৪ বছর বয়সী ওয়াং ৭.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে সর্বকনিষ্ঠ স্বনির্মিত বিলিয়নিয়ারের তালিকায় জায়গা করে নেন। সম্প্রতি মার্কর প্রতিষ্ঠাতা সুর্য মিধা, ব্রেন্ডান ফুডি ও আদর্শ হিরেমাথ ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.৯ থেকে ২.২ বিলিয়ন ডলার।
এত দ্রুত সম্পদ অর্জন করা নিজেদের কাছেই বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন মার্করের প্রতিষ্ঠাতারা। গত বছর ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের পর ফোর্বসকে ফুডি বলেন, “এটা অবশ্যই পাগলাটে। খুবই পরাবাস্তব মনে হচ্ছে। আমাদের কল্পনার বাইরে, দুই বছর আগে যা ভাবতে পারতাম তার সব ছাড়িয়ে গেছে।”




